মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৫ শতাংশে নামিয়েছে। গত জানুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি ২.৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং ঋণের উচ্চ সুদের হার বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংঘাত আবারও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
Advertisement
বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম এ বছর ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি।
একই সঙ্গে সার উৎপাদনের খরচ ও দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব খাদ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে এ বছর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের ৩.৩ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
Advertisement
তবে বিশ্বব্যাংক আরও সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.৪ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
জানুয়ারির পর থেকে বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যদিও ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সেটিও ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় ০.৪ শতাংশ কম থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় ভাঙ্গা বলেন, গত এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলো ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও মূল চ্যালেঞ্জ একই—আজ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, পাশাপাশি আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগও নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ জন্য এরই মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা তহবিল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সহায়তার পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম