তিনি বিভিন্ন সময় মোহামেডানে খেলেছেন। মোহামেডানের হয়ে এক প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক পাঁচ-পাঁচটি সেঞ্চুরিও আছে মোহাম্মদ আশরাফুলের। সবচেয়ে বড় কথা, মোহামেডান যে ২০০৯ সালে শেষ লিগ বিজয়ী হয়েছিল, সেই দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন আশরাফুল। এবং ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর আবাহনীর বিপক্ষে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া লিগ নির্ধারণী ম্যাচে মোহামেডানের ওপেনার হিসেবে খেলে হাফসেঞ্চুরিও (৭৬ বলে ৫২) উপহার দিয়েছিলেন আজকের জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ।
Advertisement
তারপরও আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ে লিগ খেলা হয়নি। ফিরে এসে আবার মোহামেডানের হয়ে খেলেছেন কয়েক বছর। বেশ সুনামের সঙ্গে খেললেও দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে পারেননি আশরাফুল।
এবার মোহামেডান দীর্ঘ ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বেশ খুশি আশরাফুল। তার কথা, ‘মোহামেডানে কোচিং করানো ছাড়া আমি সবই করেছি। খেলেছি। অধিনায়কত্ব করেছি। চ্যাম্পিয়নও হয়েছি একাধিকবার।’
তবে খুশির চেয়ে বিস্ময়টাই বেশি। যে মোহামেডান এক বছর না পারলে পরের বছর, কিংবা তার পরের বছরই লিগ ট্রফি জিততো, সেই মোহামেডান ১৬ বছর লিগ জিতেনি। এটা ভাবতেই অবাক আশরাফুল। এতদিন কেন মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হয়নি? হিসেব মিলাতেই পারেন না আশরাফুল।
Advertisement
আশরাফুল বলছিলেন, ‘মাঝে কয়েক বছর বেশ ভালো দল গড়েও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি মোহামেডান কয়েকটি কারণে। প্রথমত, ভাগ্য সাহায্য করেনি। কখনো কখনো নামি-দামি তারকা ক্রিকেটার দলে ভেড়ানোর পরও টিম বন্ডিং হয়নি হয়তো। পাশাপাশি কিছু বছর সিনিয়র ও তারকাদের সার্ভিসও মেলেনি। তারা জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে আর মোহামেডানকে সার্ভিস দিতে পারেননি। আবার ২০০৯ সালের দুই-তিন বছর পর টানা কয়েক বছর কাগজে-কলমে দলও ভালো ছিল না। এক কথায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দলই ছিল না। সব মিলিয়েই মোহামেডান সেই ২০০৯ সালের পর আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।’
এবারের দলকে অভিনন্দন জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে আমার প্রিয় ও পুরোনো দল মোহামেডান এবার অনেক দিন পর আবার প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জিতেছে। আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। শুভেচ্ছা জানাই।’
মোহামেডান যে ম্যাচে আবাহনীকে হারিয়ে শেষবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই দলে ছিলেন আশরাফুল। সহ-অধিনায়কও ছিলেন। আবাহনীর সঙ্গে ২০০৯ সালের ২১ ডিসেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের স্মৃতিচারণ করতে আশরাফুল প্রথমেই বলে ওঠেন, ‘আমি ওপেন করতে নেমে ফিফটি করার পর রানআউট হয়ে যাই। এখনো মনে আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও সেই খেলায় ৬০-এর ওপরে রান করেছিল। ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ছিল আমাদের মোহামেডানের টপ স্কোরার। তারপরও আমাদের শেষ দিকে গিয়ে ওভারপিছু রান তোলার গতি বেড়ে যায়। পাকিস্তানি রানা নাভেদ-উল-হকের একটি ঝড়ো ইনিংস আমাদের জয়ের খুব কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও শেষ বলে ৪ রান দরকার ছিল।’
‘শেষ ওভারের পঞ্চম বলে উইকেট পড়ার পর পাইলট ভাই যখন উইকেটে গেলেন, তখন আমাদের দরকার ছিল ৪ রানের। মানে বাউন্ডারি বা ওভার বাউন্ডারি হাঁকানো ছাড়া জেতা সম্ভব ছিল না। ঐরকম অবস্থায় রফিক ভাইয়ের বলে পাইলট ভাইয়ের শট থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে সীমানার ওপারে চলে গেল। আমরা পেলাম ঐতিহাসিক জয়।’
Advertisement
‘আমার মনে হয়, আমরা খানিক ভাগ্যের আনুকূল্য পেয়েছিলাম পাইলট ভাইয়ের ঐ উইনিং শটে। কারণ বল যে জায়গা দিয়ে সীমানার ওপারে গেছে, সেটা ছিল অরক্ষিত। থার্ডম্যান বাউন্ডারি লাইনের ওপর থেকে ৩০ গজের ভেতরে নিয়ে আসায় ঐ বল থামানোর আর কোনো ফিল্ডারই ছিল না। তাই আমাদের জয়সূচক রান পেতে কোনো অসুবিধাই হয়নি। রফিক ভাইয়ের বলে ছক্কা হাঁকানো ছাড়া আসলে বাউন্ডারি বের করা কঠিন ছিল। আমরা খুব টেনশনে ছিলাম। পারব কি পারব না, ভেবে অস্থির ছিলাম। পরে লাকিলি সেই শট থার্ডম্যান দিয়ে সীমানার ওপারে চলে যাওয়ায় আমরা জিতে যাই।’
এআরবি/এমএমআর