বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফলতম দল ব্রাজিল। পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর থেকে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দলটির সমর্থকরা। তবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হেক্সা মিশন যেন এক অলীক স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেলেসাওদের জন্য।
Advertisement
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রথম মাঠে নামবে রোববার সকালে। প্রতিপক্ষ মরক্কো। দলটির কোটি কোটি ভক্তের মনে আবারও সেই চিরচেনা প্রশ্ন; এবার কি পূরন হবে তাদের হেক্সা জয়ের মিশন?
এবারের আশার আলোটা একটু ভিন্ন। সাম্বার চিরচেনা ছন্দ আর জোগো বোনিতোর ধারক হয়ে এবার ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা তারকার কাঁধে। একদিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রাজা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, অন্যদিকে ক্যাম্প ন্যু মাতিয়ে রাখা রাফিনহা। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজ নিজ দলকে এক হাতে টেনে নেওয়া এই দুই মহাতারকা কি পারবেন বৈশ্বিক মঞ্চে সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ সামলাতে?
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গত কয়েক মৌসুমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। গতি, ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক জীবন্ত আতঙ্ক। তবে ক্লাবের সেই অতিমানবীয় রূপটা হলুদ জার্সিতে প্রায়ই যেন হারিয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে ভিনির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। ভক্তদের প্রত্যাশা—রদ্রিগো বা এন্ড্রিকদের সাথে মিলে রিয়ালের সেই বিধ্বংসী রূপটাই এবার তিনি মেলে ধরবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।
Advertisement
অন্যদিকে, বার্সেলোনায় পুনর্জন্ম হওয়া রাফিনহা এখন লা লিগার অন্যতম সেরা পারফর্মার। গোল করা এবং করানো; দুই বিভাগেই তিনি সমান পারদর্শী। রাইট উইংয়ে তাঁর ক্ষিপ্রতা আর দূরপাল্লার শট ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলেই সবার প্রত্যাশা। সবচেয়ে বড় কথা, মাঠে রাফিনহার লড়াকু মানসিকতা এবং নেতৃত্বসুলভ আচরণ ব্রাজিল দলকে কঠিন সময়ে পথ দেখাতে পারে।
বাস্তবতা হলো ব্রাজিল দলের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এখন এই দুই উইঙ্গার। ইউরোপের শীর্ষ দুই ক্লাবে প্রতি সপ্তাহে যে চাপের মধ্যে তারা খেলেন, তা তাদের মানসিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি করেছে। তবে আসল চ্যালেঞ্জটা হবে ট্যাকটিক্যাল। জাতীয় দলে তাদের রসায়নটা কার্যকর করে তোলার দায়িত্ব কোচ আনচেলত্তির।
মাঝমাঠ থেকে যদি ভিনি ও রাফিনহার জন্য সঠিক বল সাপ্লাই নিশ্চিত করা যায়, তবে এই জুটিকে আটকানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই অসম্ভব হয়ে দাড়াবে।
হেক্সা জয়ের মিশনে কোটি ভক্তের চোখ থাকবে ভিনি-রাফিনহা জুটির ওপর। ক্লাব ফুটবলের সেই চেনা ছন্দ যদি তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে ধরে রাখতে পারেন, তবে আমেরিকার মাটিতে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য পূরণ হতে পারে।
Advertisement
আরআই/এএসএম