পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তা অবসানের দাবিতে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
Advertisement
সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং গ্রাহকসেবা ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে রোববার (১৪ জুন) থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ৮০টি সমিতির প্রায় ৪৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে অতিরিক্ত কাজ করবেন।
শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ জুন সংগঠনের এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় সেবায় মোট সাত লাখ ৮২ হাজার অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা যুক্ত হবে বলে আশা তাদের।
Advertisement
সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অতিরিক্ত কাজের ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে, বকেয়া বিল আদায় ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে, মাঠ পর্যায়ের তদারকি জোরদার হবে এবং সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় উদ্যোগ সফল হবে।
আরও পড়ুন বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের ‘ব্যাগেজ’ বহন করছে সরকার: মন্ত্রীঅ্যাসোসিয়েশন জানায়, আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে ২০২৪ সালের শুরু থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করে আসছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার কমিটি গঠন করা হয় এবং কমিটি বিভিন্ন সুপারিশও প্রণয়ন করেছে। যৌক্তিক দাবি উপস্থাপনের কারণে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছিল, আদালত এরই মধ্যে তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব শাস্তি প্রত্যাহারের নির্দেশনা এবং গত ১০ ফেব্রুয়ারি চাকরিচ্যুত ৪৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালের নির্দেশনা দিয়ে একাধিকবার তাগিদপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের এসব নির্দেশনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন বিদ্যুৎ বিভাগের সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান হলে গ্রামীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বৃদ্ধি পাবে।
Advertisement
এনএস/একিউএফ