অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের জন্য সমাজে বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একাই সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না; এজন্য প্রয়োজন সমতা, অংশগ্রহণ, অধিকার এবং সুযোগের ন্যায্য বণ্টন।
Advertisement
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সমসাময়িক বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায়বিচার: ক্ষমতা, প্রান্তিকতা, নাগরিকত্ব এবং অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
রাজনীতিতে যুক্ত তরুণ-তরুণীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিজিএসর চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সিজিএসের চলমান সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির দ্বিতীয় কর্মশালা ছিল এটি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা, ক্ষমতার কাঠামো, প্রান্তিকতা, নাগরিকত্ব, লিঙ্গ বৈষম্য এবং অন্তর্ভুক্তির রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলোও তুলে ধরেন তারা।
Advertisement
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার একটি বহুমাত্রিক ও বিবর্তনশীল ধারণা, যা মানবাধিকার, সুযোগপ্রাপ্তি, সমতা এবং অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন সব সময় অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না।
তিনি বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও জনপরিসর ও রাজনীতিতে তারা এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। অর্থবহ সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে আরও গভীর ও বিস্তৃত বোঝাপড়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আগে সমাজে বিদ্যমান অবিচারের বিভিন্ন রূপ চিহ্নিত করা জরুরি। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং জবাবদিহি শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সমাজের বহুমাত্রিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতনতা প্রয়োজন।
কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এফইএস বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ড. ফেলিক্স গ্রেদেস বলেন, সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর না করলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।
Advertisement
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা, অধিকার, স্বীকৃতি এবং নাগরিকত্বের মতো ধারণাগুলো নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বাস্তব উদাহরণ ও বিতর্কের মাধ্যমে তিনি দেখান, কীভাবে সাংস্কৃতিক রীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অসম ক্ষমতার সম্পর্ক সামাজিক বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখে।
আলোচনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে লিঙ্গভিত্তিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষার সুযোগ, নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের বিষয়গুলোও উঠে আসে।
এসএম/এমএএইচ/