ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হলো এই দুই দল। ৮০ হাজার দর্শক সরাসরি উপভোগ করছে এই ম্যাচ।
Advertisement
এই ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী সেলেসাও তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নেইমার ইনজুরির কারণে শুরুর ম্যাচে না থাকায় আক্রমণভাগের নেতৃত্ব অনেকটাই ভিনিসিয়ুসের কাঁধে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বচূড়ায় ফেরানোই তার লক্ষ্য।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের তুলনায় এখন আমি অনেক বেশি অভিজ্ঞ। আমি এখানে এসেছি দারুণ একটি টুর্নামেন্ট খেলতে এবং ব্রাজিলকে আবারও শীর্ষে ফিরিয়ে নিতে। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক মানসম্পন্ন ফুটবলার আছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমরা উন্নতি করেছি। বিশ্বকাপে সবকিছু নতুন করে শুরু হয়। আগে কে কী করেছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামী ম্যাচে কী ঘটবে। আমরা ইতিহাস বদলাতে এসেছি।’
Advertisement
২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এবার সেই দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর মিশনে নেমেছে তারা।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিও নিজের দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইতালিয়ান কোচ মনে করেন, তার দল বিশ্বের যে কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে সক্ষম।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি দল আছে, যারা বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। দলের মধ্যে গুণগত মান, অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাস- সবকিছুই রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, এবারের বিশ্বকাপ খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তার খেলোয়াড়রা প্রস্তুত।
Advertisement
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ছয়টি ম্যাচ হেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। ১৮ ম্যাচ শেষে তারা পঞ্চম স্থানে থেকে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। তার ওপর ইনজুরির কারণে রদ্রিগো, এস্তেভাও এবং নেইমারের অনুপস্থিতি দলটিকে কিছুটা চাপে রেখেছে।
তবে প্রতিপক্ষ মরক্কোকেও হালকাভাবে নিচ্ছে না ব্রাজিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশটিকে ৩-০ গোলে হারালেও গত কয়েক বছরে মরক্কো নিজেদেরকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে।
মরক্কোর একাদশে আছেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি। তার সঙ্গে থাকছেন ইসা দিয়প, শাদি রিয়াদ ও নুসাইর মাজরাউই। মাঝমাঠে রয়েছেন আয়ুব বুয়াদ্দি ও নিল এল আয়নাউই। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে খেলবেন ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন উনাহি ও বিলাল এল খান্নুস। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন ইসমাইল সাইবারি।
অন্যদিকে ব্রাজিলের একাদশে আক্রমণের মূল ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার সঙ্গে থাকবেন রাফিনহা। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো এবং রক্ষণে মারকিনহোসের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।
বিশ্বকাপের শুরুতেই দুই মহাদেশের দুই শক্তিশালী দলের এই লড়াই তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে দারুণ আকর্ষণের ম্যাচ। ব্রাজিল যেখানে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্নে পথচলা শুরু করতে চায়, সেখানে মরক্কো চাইবে নিজেদের সাম্প্রতিক উত্থানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।
ব্রাজিলের একাদশ: আলিসন; রজার ইবানেজ, মারকিনহোস, গ্যাব্রিয়েল, ডগলাস সান্তোস, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, রাফিনহা, লুকাস পাকেতা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ইগর থিয়াগো।
মরক্কোর একাদশ: ইয়াসিন বোনু; আশরাফ হাকিমি, ইসা দিয়প, শাদি রিয়াদ, নুসাইর মাজরাউই; আয়ুব বুয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউই; ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন উনাহি, বিলাল এল খান্নুস; ইসমাইল সাইবারি।
আইএইচএস/