দেশজুড়ে

যশোরে জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত

যশোরের মণিরামপুরে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।

Advertisement

নদ খননের মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি দলটি।

শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভা শেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পদ স্থগিত হওয়া আরও দুই নেতা হলেন- জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।

Advertisement

পদ স্থগিতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে তিন নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা স্বীকার করলেও চাঁদাবাজিসহ দলের নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এই বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, ‘ওই তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি, টেন্ডারবাজি অভিযোগ সত্য নয়।’

শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজ করায় বহিষ্কার করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে ‘হরিহর নদ’ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় মণিরামপুর বাজার এলাকায় সংঘটিত ওই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছিলেন। এসময় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে মণিরামপুর থানায় মামলা করলেও পরে তা আপস করেন দল দুটির নেতারা।

Advertisement

ওই ঘটনার পর বিষয়টির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা জামায়াত। যার প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। সদস্য ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং দলটির সহযোগী সংগঠন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক। তারা সরেজমিনে মণিরামপুরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করেন।

তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে আসে। গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই লিটনের প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারার অংশগ্রহণের নামে অর্থ কামানোসহ তার নানান বিতর্কিত কাজের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও উঠে আসে তদন্তে। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা জামায়াত এই তিন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত শুক্রবার উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ আহসান হাবিব লিটনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলাম তিনমাস ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য দলীয় পদ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা আমির ফজলুল হক ওই সময় ঢাকায় দলীয় বৈঠকে অবস্থান করায় জেলার জামায়াতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। বিষয়টি প্রথমদিকে চাপা থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা নিয়েও ব্যাপক গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভোজগাতী, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, চালুয়াহাটী ও খেদাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূলে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। যার নেপথ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির ও দুই সহকারী সেক্রেটারি লিটন ও শামীম বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন কখনো এ ধরনের কাজ আমি বা আমার সংগঠন সমর্থন করে না।

জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, মণিরামপুরের তিন নেতা পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। কী কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে তা তিনি বলতে রাজি হননি।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম