প্রবাস

শরণার্থী অপরাধ ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার জিরো টলারেন্স

মালয়েশিয়ায় শরণার্থী ইস্যু আবারও জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা মতামত ও উদ্বেগ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) বলেছে, শরণার্থী সংকটকে আবেগ নয়, বরং বাস্তবতা, আইন এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

Advertisement

শনিবার (১৩ জুন) ৪ পৃষ্টার এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জনগণের উদ্বেগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংঘাত ও নিপীড়নের শিকার মানুষকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে দেশটি এখনো ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন এবং ১৯৬৭ সালের প্রটোকলে স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী শরণার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে আলাদা কোনো আইনি মর্যাদা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জনগণের কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় মানবিক বিবেচনার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগও প্রয়োজন।

Advertisement

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। নিবন্ধিত শরণার্থীদের বিষয়ে তথ্য বিনিময়, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে সরকার অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, জাল নথি ব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, শরণার্থী ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা আইনের অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শরণার্থী সমস্যার মূল সমাধান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া সমাধান নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংবেদনশীল এই বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

Advertisement

বিবৃতির শেষাংশে মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করে, মালয়েশিয়া মানবিক মূল্যবোধকে সম্মান করে, তবে একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় মানবিক দায়িত্ব, আইন প্রয়োগ এবং জনগণের স্বার্থের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রেখেই সরকার তার নীতি বাস্তবায়ন করে যাবে।

এমআরএম