আইন-আদালত

ভিকটিমের সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায়: সোহেল রানা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন হাইকোর্টে জেল আপিল করেছেন। তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

Advertisement

আপিল আবেদনে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। লিখেছেন যে মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার অবচেতন মনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে গেছে। এখন নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি অপরাধের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন আপিল আবেদনে।

এ বিষয়ে রোববার (১৪ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আসামির করা আপিলের পটভূমিতে বলা হয়- ‘আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতাম। নিয়মিত ইয়াবা ও মাদকাসক্ত ছিলাম। আমি মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। ইতিপূর্বে আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। ভিকটিমের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে এটা মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়েছে।’

Advertisement

আরও পড়ুন পল্লবীতে শিশু হত্যা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল ও স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

‘আমার আর্থিক অভাব, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অসতর্ক ও অবচেতনভাবে হয়েছে। কীভাবে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমি বুঝতেই পারিনি। আমার একটিমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের ভরণপোষণ করার মতো কেউ নেই। আমি ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই,’ আবেদনে যোগ করেন সোহেল।

এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সোহেল জেল আপিলে যা উল্লেখ করেছেন এতে প্রকারান্তরে তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। উল্লেখ করেছেন পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত থাকার কথা। বিচারিক আদালত এসব বিষয় বিবেচনা করে রায় দিয়েছেন।

এফএইচ/একিউএফ

Advertisement