বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
Advertisement
রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করলে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আমির হামজার আইনজীবী আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই মানহানি মামলায় গত ২৭ এপ্রিল বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ আমির হামজাকে আগাম জামিন দেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে একই ঘটনায় সিরাজগঞ্জে দায়ের করা দুটি মামলার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান হাসান মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। গত ২৬ মার্চ সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা অ্যাকাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমির হামজা জ্বালানি মন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে তার সম্মান নষ্ট করেছেন। এতে জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের আবেগ ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে। তাই আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এ ঘটনায় আরও একটি মামলা ছিল। শুনানি শেষে আজ আদালত পৃথক দুটি মামলার জামিন দিয়েছেন।
Advertisement
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। পরবর্তীতে তার ওই বক্তব্যের এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী; যদিও বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী- না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী। এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন। তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কিনা।
আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না। এই ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এম এ মালেক/কেএইচকে/এমএস
Advertisement