আইন-আদালত

জামিন চেয়েও আবেদন প্রত্যাহার করলেন এক রেস্তোরাঁ মালিক

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে থাকা হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের মালিক রাফি উজ-জাহেদ জামিনের আবেদন করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত।

Advertisement

রোববার (১৪ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এবিএম ইব্রাহিম খলিল জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। তবে পরে আসামিপক্ষ তাদের জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে আদালতকে এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত দিতে হয়নি।

বিকেলে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জাগো নিউজকে বলেন, শুনানি শেষে আদালতের আদেশের অপেক্ষা চলছিল। পরে জানা যায়, আসামিপক্ষ নিজেরাই আবেদন প্রত্যাহার করেছে। ফলে জামিন প্রশ্নে আদালতের কোনো চূড়ান্ত আদেশ হয়নি।

Advertisement

এর আগে গত ২৩ মে রাফি উজ-জাহেদ ঢাকার একটি মহানগর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার আত্মসমর্পণের আবেদন গ্রহণ করে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, এরও আগে গত ১৭ মে একই ঘটনায় অভিযুক্ত আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী রমজানুল হক নিহাদ এবং হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের আরেক স্বত্বাধিকারী আদিব আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে নিহাদ তার আবেদন প্রত্যাহার করলেও আদিব আলম জামিন লাভ করেন।

গত ১৯ এপ্রিল আদালত বহুল আলোচিত এ মামলায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পলাতক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। এর আগে তদন্ত শেষে গত ২ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক শাহজালাল মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সাততলা ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও ছিল। ওই ঘটনায় আরও ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে রমনা মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার পুলিশের কাছ থেকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Advertisement

এমডিএএ/ইএ