বর্ষাকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল লটকন। ছোট, গোলাকার ও হালকা হলুদ রঙের এই ফলটি স্বাদে টক-মিষ্টি হওয়ায় শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সী মানুষের কাছেই বেশ পছন্দের। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ‘বুবি’, ‘হারফাটা’ বা ‘লটকা’ নামেও পরিচিত। মৌসুমি ফল হিসেবে লটকনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও ফলটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
Advertisement
তবে অনেকেই না জেনে অতিরিক্ত লটকন খেয়ে ফেলেন কিংবা কিছু স্বাস্থ্যগত বিষয় উপেক্ষা করেন। ফলে উপকারের বদলে কখনো কখনো দেখা দিতে পারে অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা। তাই লটকন খাওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা জরুরি।
লটকনের পুষ্টিগুণলটকনে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস ও খাদ্যআঁশ। বিশেষ করে ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে সাধারণত পাওয়া যায়- ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, খাদ্যআঁশ, সামান্য প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান।
আরও পড়ুন জামের বীজের গোপন গুণ, যা অনেকেরই অজানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়কলটকনে থাকা ভিটামিন সি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। মৌসুমি সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত অসুস্থতার সময় এই ফল কিছুটা উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত পরিমাণমতো খেলে শরীর সতেজ থাকে।
Advertisement
লটকনে থাকা খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতেও এটি উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত খেলে উল্টো গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।
অতিরিক্ত খেলে যে সমস্যা হতে পারেঅনেকেই একসঙ্গে অনেক লটকন খেয়ে ফেলেন। কিন্তু অতিরিক্ত টক জাতীয় ফল খাওয়া শরীরের জন্য সবসময় ভালো নয়।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে: যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তারা অতিরিক্ত লটকন খেলে বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
আরও পড়ুন জানেন কি দিনে কয়টি লিচু খাওয়া নিরাপদ?দাঁতের ক্ষতি হতে পারে: লটকনের টকভাব দাঁতের এনামেলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বেশি খেলে দাঁত শিরশির করা বা সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। তাই খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে কুলি করা ভালো।
Advertisement
ডায়রিয়া বা পেট খারাপ: অতিরিক্ত খেলে কিছু মানুষের পেট খারাপ, পাতলা পায়খানা বা হজমজনিত সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি লটকন খেতে পারবেন?লটকনে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাই সীমিত পরিমাণে ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। তবে একসঙ্গে বেশি না খাওয়াই ভালো। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাওয়া নিরাপদ।
শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতালটকনের বিচি বড় ও শক্ত হওয়ায় ছোট শিশুদের খাওয়ানোর সময় সতর্ক থাকতে হবে। অসাবধানতাবশত শিশুরা বিচি গিলে ফেলতে পারে। তাই বড়দের তত্ত্বাবধানে খাওয়ানো উচিত।
আরও পড়ুন যেসব উপকার মিলবে জাম খেলে রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকিবাজারে অনেক সময় ফল দ্রুত পাকানো বা সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই লটকন কেনার পর ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে খাওয়া জরুরি। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিন।
কারা কম খাবেন? দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আলসার দাঁতের সংবেদনশীলতা অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ছোট শিশু লটকন খাওয়ার সঠিক উপায় একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান খালি পেটে না খাওয়াই ভালো ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে খাওয়ার পর পানি পান করুন অতিরিক্ত লবণ বা ঝাল মিশিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলুন লটকনের আরও কিছু ব্যবহার আরও পড়ুন কাঁঠালের বিচিতে মিলবে যেসব উপকারশুধু কাঁচা ফল হিসেবেই নয়, লটকন দিয়ে আচার, জুস, জ্যাম বা বিভিন্ন ধরনের টক-মিষ্টি খাবার তৈরি করা যায়। গ্রামীণ অঞ্চলে লটকনের আচার বেশ জনপ্রিয়।
স্বাদ, পুষ্টি ও মৌসুমি বৈচিত্র্যের কারণে লটকন নিঃসন্দেহে একটি উপকারী ফল। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের অবস্থা বুঝে এবং স্বাস্থ্যগত বিষয় মাথায় রেখে লটকন খেলে এর উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। সচেতনভাবে খেলে এই ছোট্ট ফলটি হতে পারে গরম ও বর্ষার সময়ের একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।
তথ্যসূত্র: বিন্নি ফুড, পিনপয়েন্টম্যাক্স
জেএস/