দেশজুড়ে

মাটির দেওয়াল-ভাঙা ছাউনি, তবুও শেষ বরাদ্দের টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পিছিয়ে পড়া বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোল উপজেলা। দেশজুড়ে ইট-পাথরের দেওয়ালে আধুনিক স্থাপনা গড়ে উঠলেও, এখানকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর এখনও মাটির।

Advertisement

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে মাটির দেওয়ালে নির্মিত হয়েছে আলিশাপুর দাখিল মাদরাসা। আধাপাকা মাদরাসাটির উন্নয়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী এ অর্থ পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, পিআইসি কমিটিকে না জানিয়েই কিছু অর্থ খরচ দেখিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

এই প্রকল্পের সভাপতি বানানো হয় ফতেপুর ইউনিয়নের ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ইশমত আরা বেগমকে। কিন্তু এই মাদরাসাটি ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী প্রকল্পটির সভাপতি হতে পারেন না এই নারী ইউপি সদস্য।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের গত ৩১ মার্চ জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি অভিযুক্তদের কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সরেজমিনে তদন্তে গিয়েও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন তিনি। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি।

Advertisement

সরেজমিনে আলিশাপুর দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাটির তৈরি ভবনের বেশ কয়েকটি অংশের টিনের ছাউনি উঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে শ্রেণিকক্ষের চেয়ার-টেবিল। জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। গত তিন বছরে মাদরাসাটির সংস্কার হয়েছে কি না দেখে বোঝার উপায় নেই।

আলিশাপুর দাখিল মাদরাসার দপ্তরি ইউসুফ আলী বলেন, হঠাৎ একদিন উপজেলা থেকে লোকজন এসে মাদরাসার টিনশেডের কিছু কাজ করে। একদিন কিছুটা কাজ করেই তারা চলে যায়। পরে জানতে পারি, আমাদের মাদরাসার সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না।

ফতেপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ইশমত আরা বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। এমনকি মাদরাসাটির অবস্থান ৯ নম্বর ওয়ার্ডে, অথচ আমি ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য। আমাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এমন কাজ করেছেন রবিউল ইসলাম।’

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Advertisement

অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, তদন্তের কাজ প্রায় শেষ করে ডিসি স্যারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা বলা সম্ভব নয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বিষয়টি শুনে তিনি সংযোগটি কেটে দেন। পরে আর কল ধরেননি।

সোহান মাহমুদ/এফএ/এমএস