নতুন টিভি কেনার সময় আমরা সাধারণত ডিসপ্লের মান, স্ক্রিনের আকার, রেজল্যুশন কিংবা স্মার্ট ফিচার নিয়ে বেশি ভাবি। কিন্তু খুব কম মানুষই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন টিভির আয়ু বা তথাকথিত ‘এক্সপায়ারি ডেট’। বাস্তবে কোনো টিভির গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ লেখা না থাকলেও এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
Advertisement
বিশেষ করে আধুনিক এলইডি, ওএলইডি এবং মিনি এলইডি টিভির ক্ষেত্রে ডিসপ্লে প্রযুক্তিই নির্ধারণ করে একটি টিভি কতদিন ভালো পারফরম্যান্স দেবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, টিভির আয়ু শুধু ব্যবহারের সময়ের ওপর নয়, বরং পরিবেশ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও নির্ভর করে।
ডিসপ্লের আয়ু কত?টেলিভিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর ডিসপ্লে প্যানেল। ওএলইডি প্রযুক্তির উন্নয়নের শুরুতে ডিসপ্লের আয়ু নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক ওএলইডি ও এলইডি ডিসপ্লে প্রায় ১ লাখ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
গাণিতিক হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টা টিভি ব্যবহার করলে একটি ডিসপ্লে তাত্ত্বিকভাবে কয়েক দশক পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে অধিকাংশ টিভি সাধারণত ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার সমস্যার মুখোমুখি হয়।
Advertisement
যদিও ডিসপ্লের আয়ু দীর্ঘ, তবুও টিভির অন্যান্য যন্ত্রাংশ আগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভোল্টেজের ওঠানামা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ধুলোবালি জমে থাকা কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে অভ্যন্তরীণ সার্কিট ও পাওয়ার সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডিসপ্লে ঠিক থাকলেও ব্যাকলাইট, মাদারবোর্ড বা ডিসপ্লে কন্ট্রোল চিপ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো টিভিই অচল হয়ে পড়ে। তখন মেরামতের খরচ নতুন টিভির মূল্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
ওএলইডি টিভির বিশেষ সমস্যাওএলইডি টিভির অন্যতম আলোচিত সমস্যা হলো ‘বার্ন-ইন’। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে কোনো লোগো, নিউজ টিকার বা স্থির ছবি প্রদর্শিত হলে তার ছাপ স্ক্রিনে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে।
যারা নিয়মিত একই নিউজ চ্যানেল দেখেন বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও গেম খেলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যদিও আধুনিক ওএলইডি টিভিতে বার্ন-ইন প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তবুও বিষয়টি পুরোপুরি এড়ানো যায় না।
Advertisement
অনেকেই মনে করেন এলইডি বা ওএলসিডি টিভিতে এমন সমস্যা হয় না। কিন্তু বাস্তবে এই টিভিগুলোরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এলইডি টিভির ব্যাকলাইট ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে স্ক্রিনে উজ্জ্বলতা কমে যায় বা কোথাও কালচে ও উজ্জ্বল দাগ দেখা দিতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এলইডি এবং ওএলইডি-উভয় ধরনের টিভিরই সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
আরও পড়ুন টিভি পরিষ্কারের সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন টিভি বদলানোর সময় হয়েছে কীভাবে বুঝবেন?কিছু লক্ষণ দেখলেই বুঝতে পারবেন আপনার টিভি বয়সের ছাপ বহন করতে শুরু করেছে-
স্ক্রিন আগের তুলনায় কম উজ্জ্বল দেখানো। রঙের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যাওয়া। স্ক্রিনে স্থায়ী দাগ বা ছাপ দেখা দেওয়া। বারবার হ্যাং হওয়া বা ধীরগতিতে কাজ করা। স্মার্ট টিভিতে সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে যাওয়া। অ্যাপ চালাতে সমস্যা বা নতুন ফিচার ব্যবহার করতে না পারা।কেএসকে