স্কুলজীবনের পর অনেকেই মনে করেন, জীবনে আর আগের মতো বন্ধু তৈরি হয় না। কর্মক্ষেত্রে কেবল কাজ আর দায়িত্ব থাকে এখানে বন্ধুত্বের জায়গা নেই বলেই অনেকের ধারণা। আবার কেউ কেউ মনে করেন, চেষ্টা করলে অফিসেও ভালো বন্ধু তৈরি হতে পারে।
Advertisement
বাস্তবতা হলো, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই বন্ধুত্ব কখনো কখনো কাজের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিকে রিলেশন এক্সপার্টরা বলছেন ‘ফ্রেন্ড বম্বিং’।
কর্মক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কি সম্ভব?কর্মক্ষেত্রে একই লক্ষ্য, একই পরিবেশ এবং দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করার কারণে সহকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক সময় এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। একসঙ্গে লাঞ্চ করা, চা বিরতি নেওয়া, কাজের বাইরে আড্ডার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই সম্পর্ক কাজের সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়।
ফ্রেন্ড বম্বিং কী?‘ফ্রেন্ড বম্বিং’ বলতে বোঝায় এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে কর্মক্ষেত্রের বন্ধুত্ব এতটাই গভীর হয়ে যায় যে তা কাজের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। তখন ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাগত দায়িত্বের সীমারেখা আর পরিষ্কার থাকে না।
Advertisement
বন্ধুত্ব গভীর হয়ে গেলে অনেক সময় সহকর্মীর ভুল বা ফাঁকি চোখে পড়লেও তা উপেক্ষা করা হয়। একজন বন্ধু হিসেবে তাকে বকা দেওয়া বা রিপোর্ট করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কাজের মান ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে এবং পুরো টিমের ওপর এর প্রভাব পড়ে।
মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়াঅফিসে ঘন ঘন আড্ডা, টি-ব্রেক বা অপ্রয়োজনীয় আলোচনা কাজের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। শুরুতে এগুলো ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে কাজের গতি কমিয়ে দেয়। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যক্তিগত চাপ ও দায়বদ্ধতাবন্ধু সহকর্মী যদি কোনো সাহায্য চায়, অনেক সময় না বলা কঠিন হয়ে যায়। ফলে নিজের কাজ ফেলে অন্যের কাজ করতে গিয়ে নিজের ডেডলাইন মিস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে ব্যক্তিগত চাপ বাড়ে এবং কাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
গসিপ ও ভুল বোঝাবুঝিকর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা অনেক সময় গসিপ বা ব্যক্তিগত আলোচনা বাড়িয়ে দেয়। এতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে এবং সহকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি অফিসের পরিবেশকেও বিষাক্ত করে তুলতে পারে।
Advertisement
সহকর্মী যখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যায়, তখন তার সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে তা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয়। ছোটখাটো মনোমালিন্যও বড় আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি অনেক সময় রাগ বা আবেগের কারণে চাকরি ছাড়ার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন প্রথম ইমপ্রেশনে সবচেয়ে বেশি নজর যায় যেসব বিষয় কাজ ও সম্পর্কের ভারসাম্য জরুরিকর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক রাখা খারাপ নয়, তবে সীমা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সহকর্মীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার, সহযোগিতা এবং সম্মান বজায় রাখা উচিত, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে আবেগের চেয়ে পেশাদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বন্ধুত্ব থাকা ভালো, তবে তা যেন কাজের মান, সিদ্ধান্ত এবং দায়িত্বকে প্রভাবিত না করে। সঠিক সীমারেখা বজায় রাখলেই কর্মজীবন আরও স্থিতিশীল ও সফল হয়।
সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন, সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম ও অন্যান্য
আরও পড়ুন চাকরি শেষে অবসর জীবনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন যেভাবেএসএকেওয়াই