যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন বলে জানানোর পর সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সমঝোতার খবরে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে।
Advertisement
সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৬.০৩ ডলারে পৌঁছায়। এটি ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তর এবং টানা তৃতীয় দিনের মতো মূল্যবৃদ্ধি। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন সোনার দামও ২.৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৭.২০ ডলারে দাঁড়ায়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানান, তারা যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, চুক্তিটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
Advertisement
সমঝোতার খবরে মার্কিন ডলার ১০ দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলারভিত্তিক সোনা কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমে আসা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার প্রত্যাশায় তেলের দাম ও ডলার—উভয়ই দুর্বল হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সোনার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা স্থায়ী হবে, তা শান্তি চুক্তির স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছিল। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়, যা মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা বাড়িয়েছিল।
Advertisement
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি সমঝোতার পর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৫১ শতাংশে নেমে এসেছে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক ও চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যের দিকে। বাজারের ধারণা, এ বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে।
ওসিবিসি ব্যাংক এক বিশ্লেষণী নোটে বলেছে, মুদ্রার মূল্যহ্রাস, আর্থিক ঝুঁকি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে সোনার চাহিদাকে সমর্থন দিয়ে যাবে। জ্বালানি-নির্ভর মূল্যস্ফীতি কমে গেলে এসব বিষয় আবারও গুরুত্ব পেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম