জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্সে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
Advertisement
গ্রেফতাররা হলেন— মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) ও কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
Advertisement
বিষয়টি প্রথমে বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ আকারে উঠে আসে। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল তদন্ত শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তবুও তারা ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমন-সংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিনামা, দুটি সিপিইউ ও একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আরও জানান, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Advertisement
এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
টিটি/এসএইচএস