আন্তর্জাতিক

ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের চার বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি ধর্ষণের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

Advertisement

সোমবার (১৫ জুন) অসলো জেলা আদালত রায় ঘোষণা করে। তবে ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা আরও বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

২৯ বছর বয়সী হইবি স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে রায় শুনেছেন।

এর আগে প্রসিকিউটররা তার জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, হইবির আইনজীবীরা ১৮ মাসের কম সাজা চেয়েছিলেন। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

Advertisement

মারিয়ুস বর্গ হইবি নিজে রাজপরিবারের সদস্য না হলেও এই বিচার নরওয়ের রাজপরিবারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তার বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা মেটে-মারিত ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তিনি রাজপরিবারের পরিবেশে বড় হয়েছেন।

বর্তমানে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত ফুসফুসের গুরুতর রোগে ভুগছেন এবং সম্প্রতি তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।

আদালতের বিচারকদের একজন জন স্ভেরদ্রুপ এফইয়েস্টাদ রায়ের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন এবং পরে ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাখ্যা দেন।

আদালত হইবিকে দুই নারীর ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা ২০১৮ সালে ক্রাউন প্রিন্সের স্কাউগুম এস্টেটে এবং অন্যটি ২০২৪ সালে অসলোতে ঘটে।

Advertisement

এ ছাড়া তিনি তার সাবেক প্রেমিকা, নরওয়েজিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার নোরা হাকল্যান্ডকে নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এছাড়া আরেক সাবেক সঙ্গীকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। ওই নারীর বাসা থেকেই ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালে অসলোর একটি হোটেলে পরিচয় হওয়া এক নারী এবং ২০২৩ সালে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জে পরিচিত হওয়া আরেক নারীর ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর আইনজীবী পেতার সেকুলিচ বলেন, তারা এখনও হইবির সঙ্গে কথা বলেননি। তবে মামলার প্রকৃতি বিবেচনায় আপিল করা হতে পারে।

তার আরেক আইনজীবী এলেন হোলাগার আন্দেনেস জানান, যেসব অভিযোগ থেকে হইবি খালাস পেয়েছেন, সেগুলো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে রায়ের অন্য কিছু অংশ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম