‘বাংলাদেশে-পাকিস্তানে চলে যান, নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে, লোক পাল্টেছে এর জন্য, এগুলো বন্ধ করবো বলে।’
Advertisement
ভারতের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে মুসলিমদের ঈদের নামাজ আদায় করতে না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বুধবার (১৭ জুন) এসব কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্যাবিনেট মিনিস্টার (পূর্ণমন্ত্রী) দিলীপ ঘোষ।
আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নগরীর ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে আয়োজিত হতে চলেছে যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। যেখানে বিজেপির প্রচুর নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগ দিবস পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ রাজ্যের মন্ত্রীরা।
যার কারণে গত ১৪ জুন থেকে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ এই সাতদিন রেড রোড বন্ধ থাকছে। এছাড়া নিরাপত্তার কারণে সংলগ্ন কিছু রাস্তা বেশ কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
Advertisement
আর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একাংশ মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে- বর্তমান সরকার যেখানে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেখানে কোন যুক্তিতে কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা রেড রোড সাতদিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন ঈদে ১ ঘণ্টার নামাজে আপত্তি, সেই রেড রোডই এবার যোগাসনের জন্য ৭ দিন বন্ধতবে এই বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এলে তো সব রাস্তাই বন্ধ হয়। খালি রেড রোড কেন, উনি যেখানেই যাবেন নিরাপত্তার কারণে সেই রাস্তা বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল কম সেখানেই (আয়োজন) করা হয়েছে। ছুটির দিন ওখানে কম লোক যাবে। সেই কারণে ওখানেই (আয়োজন) করা হয়েছে। না হলে আরও বেশি সমস্যা হতো লোকদের।’
কিন্তু যে নামাজ পড়তে ১৫ মিনিট সময় লাগে সেটার অনুমতি রেড রোডে তো দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে দিলীপ ঘোষ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘১৫ মিনিটের জন্য কত ঘণ্টা রাস্তা আটকানো হতো? আর ওনারা কে? তাদের জন্য রাস্তা আটকানো হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা বন্ধ থাকবে, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা বন্ধ থাকবে। এটা ঠিকই আছে। বছরে একবার উনি আসেন, কত বছর পর আসছেন?’
রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার দীর্ঘদিনের প্রসঙ্গে টেনে তিনি আরও বলেন, ‘১০৭ বছর ধরে অন্যায় করা হয়েছে। এখন মাত্র এক বছরে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যান বাংলাদেশে-পাকিস্তানে চলে যান, নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে, লোক পাল্টেছে এর জন্য, এগুলো বন্ধ করবো বলে। আর বন্ধ হবেই জেনে রাখুন।’
Advertisement
ডিডি/একিউএফ