স্ত্রীর বকা খাননি, এমন বিবাহিত পুরুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আর সেই বকার মূল কারণ অনেক সময়ই থাকে ছোট ছোট ভুলে যাওয়া বিষয়। বিয়ের তারিখ, জন্মদিন কিংবা আগে কোন ঈদে কী উপহার দেওয়া হয়েছিল সব স্মৃতি অনেক পুরুষের মনে রাখতে পারেন না। অন্যদিকে অনেক নারী এসব বিষয় নিখুঁতভাবে মনে রাখতে পারেন। তাই প্রশ্ন ওঠে, স্ত্রীদের কি সত্যিই স্মৃতিশক্তি কম্পিউটারের মতো শক্তিশালী? এই রহস্যের উত্তর খুঁজেছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা।
Advertisement
স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের গঠনে কোনো বড় বা মৌলিক পার্থক্য নেই। অর্থাৎ জন্মগতভাবে কারও স্মৃতিশক্তি বেশি বা কম সহজে ভাগ করা যায় না।
বরং স্মৃতির পার্থক্য তৈরি হয় মূলত পরিবেশ, অভ্যাস এবং সামাজিক শিখনের মাধ্যমে। তাই ‘নারীরা বেশি মনে রাখে’ বা ‘পুরুষরা কম মনে রাখে’-এমন ধারণা পুরোপুরি জৈবিক সত্য নয়।
সামাজিক শিক্ষা ও মেমরি কিপার ভূমিকাছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পরিবার, সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ রাখা, বিশেষ দিন মনে রাখা, সম্পর্ক বজায় রাখার মতো এসব দায়িত্ব তারা ধীরে ধীরে শিখে নেয়।
Advertisement
এই অভ্যাসের কারণে অনেক নারী পরিবারের ‘মেমরি কিপার’ বা স্মৃতিরক্ষকের ভূমিকা পালন করেন। ফলে নির্দিষ্ট তারিখ, ঘটনা বা সম্পর্কভিত্তিক তথ্য মনে রাখার দক্ষতা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
পুরুষদের মনোযোগ কোথায় থাকেঅন্যদিকে অনেক পুরুষের বেড়ে ওঠায় গুরুত্ব দেওয়া হয় ভিন্ন ধরনের দক্ষতার ওপর,যেমন কাজ, সমস্যা সমাধান বা বাইরের দায়িত্ব। ফলে তারা সম্পর্কভিত্তিক ছোট ছোট তথ্যের চেয়ে অন্যান্য বিষয়ের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। তাই বিয়ের তারিখ বা বিশেষ দিন ভুলে যাওয়া অনেক সময় স্মৃতিশক্তির সমস্যা নয়, বরং মনোযোগের ভিন্নতার ফল।
ভার্বাল মেমরি, ভাষা ও আবেগের স্মৃতিস্নায়ুবিজ্ঞানে ভার্বাল মেমরি বলতে বোঝানো হয় শব্দ, কথোপকথন এবং আবেগের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের স্মৃতিতে অনেক নারী তুলনামূলকভাবে ভালো পারফর্ম করেন। তারা পারিবারিক আলাপ, সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং আবেগঘন ঘটনা সহজে মনে রাখতে পারেন। তবে এর মানে এই নয় যে নারীদের সামগ্রিক স্মৃতিশক্তি পুরুষদের চেয়ে বেশি।
মনোযোগই আসল চাবিকাঠিস্মৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মনোযোগ। মানুষ সাধারণত সেটাই মনে রাখে, যেটাতে সে বেশি গুরুত্ব দেয় বা যার সঙ্গে আবেগ জড়িত থাকে। নারীরা যেহেতু সম্পর্ক, পরিবার ও সামাজিক বন্ধনের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, তাই এসব বিষয়ে তাদের স্মৃতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কও সেই অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণে অভ্যস্ত হয়।
Advertisement
পুরুষদেরও স্মৃতির একটি শক্তিশালী দিক রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, দিক নির্ণয়, মানচিত্র বোঝা, রাস্তা চেনা বা জ্যামিতিক কাঠামো বোঝার মতো স্পেশিয়াল মেমরিতে অনেক পুরুষ তুলনামূলকভাবে ভালো। অর্থাৎ কে কোন পথে যাবে, কোন জায়গা কোথায় এই বিষয়ে পুরুষদের দক্ষতা বেশি দেখা যায়।
স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো সরাসরি প্রতিযোগিতা নেই। এটি মূলত অভ্যাস, মনোযোগ এবং আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। কেউ সম্পর্কের বিষয় মনে রাখে, কেউ পথ-ঘাট বা কাজের তথ্য। তাই বিয়ের তারিখ ভুলে গেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আবার সবকিছু নিখুঁতভাবে মনে রাখা কোনো একক লিঙ্গের বিশেষ ক্ষমতাও নয়।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, মিডিয়াম ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই