বর্তমানে অনেক পুরুষ নিজেকে আরও স্টাইলিশ ও আত্মবিশ্বাসীভাবে তুলে ধরতে গয়না পরছেন। কারো হাতে স্টাইলিশ ব্রেসলেট, কারও গলায় চেইন বা পেনডেন্ট, আবার কেউ আঙুলে পরছেন নজরকাড়া আংটি। অনেকের মতে, সঠিক গয়না একজন পুরুষের ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। যদিও এখনো কেউ কেউ মনে করেন, গয়না পুরুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বা পৌরুষকে ম্লান করে দেয়। তবে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষা বলছে ভিন্ন কথা।
Advertisement
পুরুষদের গয়না পরার ইতিহাস মোটেও নতুন নয়। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, প্রাচীন যুগের রাজা, যোদ্ধা, অভিজাত ব্যক্তি এবং শাসকরা নিজেদের ক্ষমতা, মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান প্রকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের অলংকার ব্যবহার করতেন। সোনা, রূপা, মুক্তা ও মূল্যবান পাথরের গয়না ছিল তাদের পোশাকেরই একটি অংশ। সময়ের সঙ্গে পুরুষদের গয়না পরার ধরন বদলেছে, কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং বর্তমানে সেই ঐতিহ্য নতুনভাবে ফিরে এসেছে ফ্যাশনের মঞ্চে।
বিশেষ করে বিয়ের সাজে এখন পুরুষদের গয়না একটি বড় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। একসময় যেখানে বিয়ের সাজ বলতে কেবল কনের গয়নার দিকেই সবার নজর থাকত, এখন বরের গয়নাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। শেরওয়ানি, পাগড়ি ও মোজারির সঙ্গে মানানসই নেকলেস, লহরিয়া হার, ব্রোচ, আংটি কিংবা ব্রেসলেট বরের সাজকে আরও রাজকীয় ও অভিজাত করে তুলছে।
রাজকীয় ফ্যাশনের প্রত্যাবর্তনবর্তমান সময়ের বিয়ের ফ্যাশনে রাজকীয় সাজের প্রতি ঝোঁক স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পাটিয়ালা স্টাইলের নেকলেস, মুক্তার মালা, বড় পেনডেন্ট কিংবা মূল্যবান পাথর বসানো হার এখন অনেক বরের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
Advertisement
এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বিভিন্ন দেশের তারকা ও ফ্যাশন আইকনরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা নিজেদের বিয়েতে ঐতিহ্যবাহী ও বিলাসবহুল গয়না পরেছেন। তাদের গলায় মুক্তার মালা, হীরার নেকলেস কিংবা মূল্যবান রত্নখচিত হার দেখা যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ধরনের ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ফলে এখন অনেক তরুণ নিজের পোশাক নয়, গয়নাকেও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।
শুধু তারকাদের জন্য নয়পুরুষদের গয়নার ব্যবহার এখন শুধু তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পারিবারিক আয়োজন কিংবা উৎসবেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অলংকার ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ব্রেসলেট, আংটি, ব্রোচ এবং স্টাইলিশ চেইনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকেই আবার একসঙ্গে কয়েকটি ব্রেসলেট পরছেন, যাকে ফ্যাশনের ভাষায় ‘স্ট্যাকিং’ বলা হয়। তরুণদের মধ্যে এই স্টাইল বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।
জেন্ডার ফ্লুইড ফ্যাশনের প্রভাবফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফ্যাশনে জেন্ডার ফ্লুইডিটির প্রভাবও পুরুষদের গয়নার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। আগে কিছু অলংকারকে শুধু নারীদের জন্য উপযুক্ত বলে ধরা হতো। কিন্তু এখন সেই ধারণা দ্রুত বদলাচ্ছে।
ফ্যাশনের জগতে ব্যক্তিগত পছন্দ, আত্মপ্রকাশ এবং স্বাচ্ছন্দ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুক্তার মালা, পেনডেন্ট, বড় আংটি কিংবা রঙিন পাথরের গয়না পরতেও পুরুষরা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
Advertisement
এক সময় অধিকাংশ জুয়েলারি ব্র্যান্ডের মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের জন্য গয়না তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে অনেক ব্র্যান্ড পুরুষদের জন্য আলাদা সংগ্রহ নিয়ে কাজ করছে।
অনলাইন ও অফলাইনে পুরুষদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা নেকলেস, চেইন, ব্রেসলেট, আংটি এবং কানের দুল পাওয়া যাচ্ছে। শুধু সোনা বা হীরাই নয়, স্টার্লিং সিলভার, পিতল, স্টেইনলেস স্টিল এবং বিভিন্ন মূল্যবান পাথর ব্যবহার করেও তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজাইনের গয়না।
বদলে যাচ্ছে পুরুষদের ফ্যাশনের সংজ্ঞাসব পুরুষ যে দামি হীরার গয়না কিনছেন, তা নয়। অনেকেই কস্টিউম জুয়েলারি বা ফ্যাশন জুয়েলারি বেছে নিচ্ছেন। গোল্ড-প্লেটেড চেইন, পার্ল নেকলেস, সাইড পেনডেন্ট, মিনিমালিস্ট ব্রেসলেট এবং স্টেটমেন্ট রিংয়ের চাহিদাও এখন অনেক বেশি।
আরও পড়ুন পোলকা ডট আর ফুলের ছোঁয়ায় নজরকাড়া কঙ্গনাএক সময় গয়না পরা নিয়ে পুরুষদের নানা সামাজিক মন্তব্য শুনতে হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। এখন ফ্যাশন আর শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব রুচি প্রকাশের একটি মাধ্যম। আর সেই কারণেই আধুনিক পুরুষের ফ্যাশন স্টেটমেন্টে গয়না ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ভোগ,ডেইলি মেইল ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই