লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের লড়াই আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। দুই মহাতারকার মধ্যে ব্যবধান কিছুটা কমে আসার ফলে এই লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে।
Advertisement
প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেন। এই এক ম্যাচের পারফরম্যান্স আবারও জানিয়ে দিলো, মেসি ফুরিয়ে যাননি।
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই অসাধারণ ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক তিনবার জালের দেখা পান। এর ফলে ক্লাব ও আর্জেন্টিনার হয়ে তার ক্যারিয়ারে মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ৯১৫ টিতে।
মার্কার হিসাব অনুযায়ী, রোনালদো এখনো ৯৭৩ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন। তবে তার এই ব্যবধান কিছুটা কমে এসেছে কারণ তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিষেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ম্যাচে তার পারফরম্যান্সও আশানুরূপ হয়নি।
Advertisement
এতে করে রোনালদোর সামনে ১,০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে বাকি ২৭টি গোল, আর মেসির প্রয়োজন ৮৫টি গোল। ব্যবধান এখনো বড় হলেও মেসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এই দৌড়ের আবহ বদলে দিয়েছে। রোনালদো এখনো এগিয়ে আছেন, তবে ব্যবধান আর আগের মতো অটুট বা অজেয় মনে হচ্ছে না।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির রাতটি ছিল প্রায় সব দিক থেকেই ক্লাসিক্যাল ‘ভিনটেজ’ পারফরম্যান্স। তার প্রথম গোলটি আসে রদ্রিগো ডি পলের মাঝ মাঠ থেকে দেওয়া দারুণ পাস থেকে। তার এই পাস প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয় এবং মেসি সামনে এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন।
দ্বিতীয় গোলটি আসে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষক লুকা জিদান ফিরিয়ে দিলে। শটটি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে সেই ফিরে আসা বলে পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান মেসি।
তৃতীয় গোলটি ছিল পুরোপুরি ‘মেসি স্টাইল’- বক্সের কিনারায় বল পেয়ে তিনি ভেতরের দিকে কেটে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বলটি গোলবারের কোণ বরাবর জালে পাঠান।
Advertisement
এটি ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে তার ২০০তম ম্যাচ, যা তিনি সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে উদযাপন করেন। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি জাতীয় দলের হয়ে ১২০তম গোলও পূর্ণ করেন এবং গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনাকে কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপের প্রথম জয় এনে দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালের জন্য কিছুটা বাধা হিসেবে বিবেচিত হলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই এখনও ফুটবল ইতিহাসে ১,০০০ গোলের সবচেয়ে কাছে থাকা খেলোয়াড়। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে তার গোলশূন্য থাকা মেসির কাছে এই দৌড়কে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলার সুযোগ দিয়েছে।
পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ড স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, আল-নাসর এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে টানা গোল করার মাধ্যমে এই বড় ব্যবধান তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে মেসি ভিন্নভাবে খেলেছেন। বার্সেলোনা, পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি এবং আর্জেন্টিনার হয়ে প্রায়শই গভীর অবস্থান থেকে এবং শুধুমাত্র পেনাল্টি বক্স ফরোয়ার্ড হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে এতগুলো গোল করেছেন তিনি। এই পার্থক্যই তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এখন দুজনেরই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে এসে পরিসংখ্যানের লড়াই এখনো চলমান। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো এগিয়ে আছেন; কিন্তু লিওনেল মেসির গতি তাকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে, ফলে ১০০০ গোলের পথটি আর আগের মতো একতরফা শোভাযাত্রা নয়, বরং শেষ মুহূর্তের এক তীব্র দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে।
এমএআর/আইএইচএস/