ক্রোয়েশিয়ার মত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নেমে জোড়া গোল করলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সে সঙ্গে গত মৌসুমে গোলের যে ধারাবাহিকতা ছিল তার, সেটা বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটজয়ী এই ফুটবলার।
Advertisement
এবারও যেহেতু প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন, সেহেতু গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন তিনিও। যদিও হ্যাটট্রিক করার কারণে তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কানাডার জোনাথন ডেভিডস। ২টি করে গোল রয়েছে কিলিয়ান এমবাপে এবং আরলিং হালান্ডেরও। নিজের জোড়া গোল নিয়ে হ্যারি কেইন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আরলিং হালান্ডের দুর্দান্ত শুরুর পারফরম্যান্স তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই অনুপ্রেরণারই প্রতিফলন দেখা গেছে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্বীকার করেছেন যে টুর্নামেন্টে অন্য তারকা ফরোয়ার্ডদের পারফরম্যান্স তার নজরে ছিল, তবে তার মূল মনোযোগ ছিল নিজের খেলা এবং দেশের সাফল্যের দিকে।
কেইন বলেন, ‘অবশ্যই আমি দেখেছি অন্যরা গোল করছে। আমি সাধারণত অন্যদের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দিই না; কিন্তু একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করা স্বাভাবিক ব্যাপার। আর তারা সবাই বিশ্বকাপটা দারুণভাবে শুরু করেছে।’
Advertisement
তিনি জানান, মাঠে নামার জন্য ইংল্যান্ড দল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। কেইনের ভাষায়, ‘আমরা ম্যাচ খেলার জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। ছয় দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে, তাই সবাই মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে ছিল।’ মূলতঃ এল গ্রুপ তথা সর্বশেষ গ্রুপের হওয়ার কারণে বিশ্বকাপ শুরুর পরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের মাঠে নামার জন্য।
বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার আরও বলেন, টুর্নামেন্টের সেরা ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই তাকে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে উৎসাহ দেয়। ‘আমি একজন স্ট্রাইকার হিসেবে যত দ্রুত সম্ভব গোলের খাতা খুলতে চাই। মনের ভেতরে এই প্রতিযোগিতা আমাকে নিজের মান আরও উঁচুতে নিতে সাহায্য করে’- বলেন কেইন।
বিশ্বকাপের শুরুতেই প্রভাব রাখতে পেরে সন্তুষ্ট এই ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপই হলো সেই মঞ্চ, যেখানে সেরা খেলোয়াড়দের নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে হয়। তাই শুরুতেই দুই গোল করতে পারাটা অবশ্যই দারুণ অনুভূতি।’
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল ম্যাচে গোল হজম করার পর খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন এবং সাইডলাইন থেকে কী বার্তা দিয়েছিলেন সেটিও জানিয়েছেন। টুখেল বলেন, ‘আমি তাদের কিছুটা সময় দিয়েছিলাম নিজেদের মধ্যে শান্ত হওয়ার জন্য। বলেছিলাম, মাথা ঠান্ডা রাখতে। আমরা একটি গোল হজম করেছি, তাই স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে, ফলাফল যাই হোক না কেন, তাদের এবং গত ১৭ দিনের ব্যাপারে আমার ধারণা বদলাবে না। কিন্তু আমি চাই তারা কাজটা তাদের নিজেদের মতো করে করুক- আমাদের মতো করে করুক। আমি চাই তারা সাহসী, নির্ভীক, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠুক। কাজটা একসঙ্গে করুক এবং ঝাঁপিয়ে পড়ুক।’
নিজের বক্তব্য দলের কাজে লেগেছে কি না, সে প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, ‘যদি খেলোয়াড়রা বলে এটা তাদের সাহায্য করেছে, তাহলে তো আরও ভালো। মূল বার্তাটা ছিল তাদের উৎসাহ দেওয়া এবং জানানো যে আমরা তাদের ওপর আস্থা রাখি। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
ইংল্যান্ড কোচ বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন কেইনের। শুধু দুটি গোলের জন্য নয়, বল ছাড়া তার পরিশ্রম ও নেতৃত্বগুণের জন্যও। টুখেল বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে একটি সেট-পিসের পর প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ শট নিজের পুরো শরীর দিয়ে ঠেকাতে আপনি যদি আমাদের অধিনায়ক, আমাদের নাম্বার নাইনকে দেখেন, তাহলে তার পারফরম্যান্স সম্পর্কে সবই বুঝতে পারবেন। এটি ছিল একটি পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স। সে একজন প্রকৃত নেতা।’
টুখেলের মতে, কেইন বর্তমানে মাঠের ভেতরে ও বাইরে- দু’জায়গাতেই উদাহরণ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘সে শতভাগ নিবেদিত। শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে- সব দিক থেকেই। এই মুহূর্তে সে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। সে এটা ভীষণভাবে চায় এবং নিজের কাজ দিয়ে প্রমাণ দেয়। তাকে নিয়ে আমরা খুবই খুশি।’
এমএআর/আইএইচএস/