ফ্যাসিস্টকে পরাজিত করা গেলেও তাদের শেকড় রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ‘গণতন্ত্র ও মানুষ হত্যাকারী’ পরাজিত শক্তি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই শেকড় সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে আমরা আবারও গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলবো, আবারও মানুষ গুম-খুন-নিপীড়নের শিকার হবে।
Advertisement
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার অডিটরিয়ামে চিত্রকলা ও চিত্রশিল্পীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লবেলিয়া’ আয়োজিত সাত দিনব্যাপী এক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদকে সমূলে উৎপাটন করতে হলে দেশে একটি বিশাল শক্তিশালী কর্মীবাহিনীর প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করতে কত ধরনের রূপ আমরা দেখেছি অতীতে। আয়নাঘর তৈরি করে রিমান্ডের নামে অত্যাচার করা, পায়ের নখ তুলে ফেলা, আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলা।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ফেরাতে কি বিপদ গেছে আমরা কিন্তু ভুলে যাচ্ছি! আমরা ১৭ বছরের এই পৈচাশিকতা আমরা ভুলে যাচ্ছি। এই ঘটনা এই দেশেই চলেছে কিন্তু ২৪’র ৫ আগস্টের অশেষ রহমত যে পরিবর্তন হয়েছে।
Advertisement
রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক চেতনার আবহে সবাইকে প্রয়োজন। সবারই অবস্থান থাকা দরকার। এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদের সঙ্গে কি করে সহবস্থান? আজ জার্মানিতে হিটলারের রাজনৈতিক দল নাৎসিকে তাকে আবার রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হতো নিঃসন্দেহে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তারা আবার ক্ষমতায় আসতো। কিন্তু সেই সুযোগ জার্মানির জনগণ এবং সেখানকার রাজনৈতিক দল সেখানকার বুদ্ধিজীবী একইভাবে ইতালিতে যার কারণে আজও জার্মানি গণতন্ত্র টিকে আছে ইতালিতে গণতন্ত্র টিকে আছে। আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিটা গ্রহণ করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গিটা হচ্ছে এটাই যে সবারেই কথা বলার অধিকার আছে কিন্তু হত্যাকারীর কথা বলা অধিকার নেই। এই পার্থক্যটা আমরা না বুঝতে পারলে আমাদের আবার ক্ষতি হবে।
ডিএনএ ও জেনিটিক্যালী আওয়ামীলীগ গণতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিস্ট চরিত্রের অধিকারী মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন জিয়াউর রহমান আসলেন ক্ষমতা নিলেন তিনি গণতন্ত্রের সে অবাধ সুযোগ তৈরি করলেন এবং বাকশালে যে আওয়ামী লীগ ডুবে গিয়েছিল, হারিয়ে গিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের উদারতায় আওয়ামী লীগের নামে তারা আবারো আত্মপ্রকাশ করা সুযোগ পায়। এটা উপলব্ধিটা তাদের কখনো হয়নি। তারা ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেও পিসফুল ট্রান্সফার অফ পাওয়ার না পিসফুল ট্রান্সফার অফ পাওয়ার তারা করেনি। তারা জাস্টিস শাহাবুদ্দিনকে থ্রেট করেছে নির্বাচন বাতিল করতে। নির্বাচনের ফলাফল যখন দেখা গেল যে, বিএনপি জিতে গেছে বা বিএনপি জোট জিতেছে তখন তারা নানাভাবে উসকানি দিয়েছে এবং জাস্টিস শাহাবুদ্দিনের মতো একজন মানুষকে তারা ধমক দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘লবেলিয়া’র কর্ণধার বেনজির আহমেদ টিটো। চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ডাক ও তার, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চারুকলার শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি খন্দকার আশফাক আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান খান দিপু ভূইয়া, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভির আহমেদ রবিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন কাওছার হোসেন চঞ্চল, শিল্পকলার মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
Advertisement
কেএইচ/এমআইএইচএস