বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের জার্সি আর নেইমারের নাম- দুটি যেন একে অপরের পরিপূরক; কিন্তু চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই অনিশ্চয়তায় ছিলেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তা কাটার ইঙ্গিত দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
Advertisement
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের পর ব্রাজিল কোচ জানিয়েছেন, কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা নেইমার দলের সঙ্গে আবার অনুশীলনে ফিরছেন এবং বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে পাওয়া যেতে পারে। আনচেলত্তির ভাষায়, ‘নেইমার পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেই আশা করছি।’
৩৪ বছর বয়সী নেইমার বিশ্বকাপের আগে চোটে পড়ায় ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি। তবু তাকে দলে রেখেছিলেন আনচেলত্তি, কারণ অভিজ্ঞ এই তারকাকে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নয়, দলের নেতৃত্ব ও মানসিক শক্তির উৎস হিসেবেও দেখেন।
এদিকে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর সমালোচনার মুখে পড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচে দলটির খেলায় স্পষ্ট উন্নতির ছাপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহার পারফরম্যান্স এবং আক্রমণে ভারসাম্য ফেরানো নিয়ে সন্তুষ্ট আনচেলত্তি।
Advertisement
তবে ব্রাজিলের সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় খবর একটাই- নেইমারের প্রত্যাবর্তন এখন আর কেবল আশা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে ৭৯ গোল করা এই তারকা দীর্ঘদিন ধরেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তার অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
নেইমার ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ওই ম্যাচে তিনি বাঁ-হাঁটুতে গুরুতর আঘাত (এসিএল এবং মেনিস্কাস ইনজুরি) পান। এরপর থেকে দীর্ঘ দিন তিনি জাতীয় দলের বাইরে। এবার তাকে খেলানোর কথা বলা হলেও মাঠে কতটুকু ফিট নেইমারকে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
এখন নজর স্কটল্যান্ড ম্যাচে। গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে যদি নেইমার মাঠে ফেরেন, তাহলে সেটি শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, পুরো বিশ্বকাপের জন্যই হতে পারে অন্যতম বড় আকর্ষণ। কারণ বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটির গল্প এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
টিটিটি/আইএইচএস/
Advertisement