এই সড়কে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রায় দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এক কিলোমিটারের সড়কটি ১৫টি গ্রামের মানুষের ভরসা। অথচ গুরুত্বপূর্ণ সেই সড়কটিই এখন স্থানীয়দের আতঙ্কের কারণ। বৃষ্টি এলেই সড়কের গর্তে পানি জমে থাকে। অটোরিকশা, সিএনজি উল্টে প্রাণনাশের শঙ্কাও তৈরি হয়। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।
Advertisement
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর বরকোটা সড়কে বছরের পর বছর ধরে ভুগছেন স্থানীয়রা। গৌরীপুর-চাঁদপুর সড়কের বিটেশ্বর থেকে মলয় বাজার পর্যন্ত সকটির দৈর্ঘ্য ১৩০০ মিটার। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন বিটেশ্বর ইউনিয়নের চন্দ্রশেখরদী, কাদিয়ারভাঙ্গা, নৈয়াইর, নোয়াদ্দা, খানেবাড়ী, কাটারাপাড়া, তিনপাড়া, মাদলা, নোয়াগাও, নোয়াপাড়া, বরকোটা, ডেকরিখোলাসহ চিনামূড়া, ভাগলপুর, মোহাম্মদপুর মলয় গ্রামসহ আশে পাশের গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়াও প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বর্তমান বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি এলে রাস্তার ছোট বড় গর্তগুলোতে পানি জমে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পুরো সড়কটির কার্পেটিং উঠে গেছে। এছাড়া সড়ক সংলগ্ন বেশ কয়েকটি পুকুর রয়েছে। পুকুর সংলগ্ন সড়কের অংশও ভেঙে গেছে।
সড়কের ভাঙা অংশে দুটি অটোরিকশা মুখোমুখি হলেই বাঁধে যানজট। প্রতিদিনই অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। এতে অনেকের হাত-পা ভেঙে যাওয়াসহ নানানভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে।
Advertisement
অটোরিকশাচালক শাহজালাল বলেন, রাস্তা অতিরিক্ত খারাপের কারণে প্রতিদিনই রিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যন্ত্রাংশ কিনে রিকশা মেরামত করতে গিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। রাস্তার দ্রুত সংস্কার চাই।
দোকানদার আলি মিয়া বলেন, রাস্তার ভাঙা অংশগুলোর কারণে বিভিন্ন সময় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং গাড়ি সাইড দেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে অনেকের হাত পা ভেঙে যায়।
স্থানীয় পথচারী খোকন মিয়া বলেন, পূর্বেও রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু বড় বড় ট্রাক এই রাস্তা ব্যবহার করার কারণে দ্রুতই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু এটি গ্রামীণ রাস্তা, বড় ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলে রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হত।
বরকোটা গ্রামের মো. রুহুল আমিন বলেন, এই রাস্তা ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণ প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর ধরে সংস্কার না হওয়ার কারণে রাস্তাটির এই বেহাল দশা। জনগুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এফএ/এএসএম