দেশজুড়ে

উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও নেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভায়

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার তকমা থাকলেও বাস্তবে নাগরিক সুবিধার দিক থেকে চরম অবহেলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার মাগুরা পৌরসভা। বছরের পর বছর কর ও ভ্যাট আদায় করা হলেও উন্নয়নের কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শহরের ভাঙাচোরা সড়ক, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, অন্ধকারে ডুবে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন পৌরবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভায়নার মোড় থেকে যশোর রোড ভিটাশাইর পর্যন্ত পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সড়কবাতির ব্যবস্থা নেই, ফলে পুরো এলাকা রাতের অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে ঢাকা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সংযোগ সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা দিন দিন বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, পৌরসভার অধিকাংশ সড়কই খানাখন্দে ভরা। বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত, ভাঙা ইট এবং খোয়ার স্তূপ। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিশু, শিক্ষার্থী এবং বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

Advertisement

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্কার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবছর নিয়ম করে কর ও ভ্যাট দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধার নামে আমরা পাচ্ছি শুধু অবহেলা। রাস্তাঘাটের এমন বেহাল অবস্থা যে চলাচলই কষ্টকর।’

একজন ইজিবাইকচালক বলেন, ‘ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অনেক সময় যাত্রীসহ গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই থাকে।’

এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘শহরের প্রধান সড়কে যদি পর্যাপ্ত আলো না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করবে কীভাবে? অন্ধকারের সুযোগে ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।’

এ বিষয়ে মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী বলেন, ‘মাগুরা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৫২২ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করা হবে।’

Advertisement

মোঃ মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এএইচ/এমএস