আমের ওজন প্রায় ৫ কেজি। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঠিকই শুনেছেন। রাজধানীতে চলমান তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলায় এমন আমই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘ব্রুনাই কিং’ নামের এই বিশাল আকৃতির আম দেখতে ভিড় করছেন অনেকেই।
Advertisement
শুধু ব্রুনাই কিং নয়, বিদেশি জাতের মিয়াজাকি, কিং অফ, কেসোআই, রেড পালমার ও পুষা উরনিমসহ বিভিন্ন বাহারি ও বড় আকারের আমও মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। এছাড়া বারি উদ্ভাবিত জারা লেবু, সান্মাম, কোকো, বারি কাঁঠাল, জাম, লিচুসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফলও প্রদর্শিত হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে আয়োজিত জাতীয় ফল মেলায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। গত ১৮ জুন শুরু হওয়া এ মেলার শেষ দিন আজ। বিকেলে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলে ‘ব্রুনাই কিং’ জাতের আমের দেখা মিলছে। যে আমটির ওজন ৫ কেজি বলে জানান স্টলে থাকা এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমটি প্রদর্শনীর জন্য আনা হয়েছে। এ আমের ওজন ৩ থেকে ৫ কেজি হয়ে থাকে। যেখানের মাটি ভালো সেখানে ভালো ফলন হয়।
Advertisement
ফল মেলায় মিয়াজাকি, রেড পালমার, কেসোআইসহ নানা বিদেশি জাতের আম প্রদর্শন করছেন এক উদ্যোক্তা, ছবি: জাগো নিউজ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই আমটি দেশে বহু বছর ধরেই হয়ে আসছে। এটি পাহাড়ে বেশি হয়। বলা চলে এটি পাহাড়ি আম। আমের ওজন ৩ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ আমাটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউজের জন্য ভালো। পারিবারিকভাবে এটি গ্রহণ করা কঠিন। এত বড় আম পরিবারের কয়জন মিলে খেতে পারবেন? সর্বনিম্ন ৬০ টাকা কেজি ধরলেও ৫ কেজির ওজন দাম হবে ৩০০ টাকা। আদতে এই আম ৩০০ টাকায় কেনা যাবে না। আর আম কাটার পর রেখে দেওয়া যায় না। এটি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যবহারের জন্য ভালো।’
শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি স্টলে দেখা গেলো বাহারি সব জাতের আম। মিয়াজাকি, কিং অফ, কেসোআই, রেড পালমার ও পুষা উরনিম নামের বিদেশি আম তার স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এছাড়া দেশীয় আমের মধ্যে হাড়িভাঙা, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা আম বিক্রি হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি গ্যাপ সার্টিফাইড ও বিএসটিআই অনুমোদিত আম উৎপাদন করে মূলত বিদেশ রপ্তানির জন্য।
Advertisement
দিনাজপুরের এই প্রতিষ্ঠান শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজের মালিক আনসার আলি জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় ৩ টন আম নিয়ে এসেছিলাম, এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় টন আম বিক্রি করেছি। অন্য প্রতিষ্ঠান বা খামারির চেয়ে আমার আম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা খরচ বেশি। কোনো ধরনের কেমিক্যাল ছাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে এই আম উৎপাদন করা হয়। এখানে বিদেশি জাতের যেসব আম দেখা যাচ্ছে, এগুলো পাকতে আরও সময় লাগবে। সবগুলোই আমার খামারে উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তার বাগানে ২০ জাতের আম ও ৫ জাতের লিচু উৎপাদন হয়।
মেলায় দেখা যায়, ৮০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে নানা ধরনের আম বিক্রি হচ্ছে। লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা শতে। আর জাম বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। মিরু ফল ভাণ্ডারের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা ব্যানানা মেংগো ১৪০ টাকা ও অন্যান্য আম ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ ক্যারেট আম বিক্রি করেছি। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আমই।
মেলায় আসা হলিক্রসের শিক্ষার্থী হাবিবা উম্মে দিলশাদ বলেন, ‘এমন বাহারি জাতের ফল আগে কখনও দেখিনি। এত জাতের আম হয় সেটি জানতামই না। এমন মেলা আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত। মাত্র তিন দিনের জন্য, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের মেলা অন্তত ১৫ দিন হওয়া উচিত।’
ইএইচটি/এমএএইচ/