দেশজুড়ে

জুলাই সনদ-গণভোটের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই সনদ আর গণভোটের সঙ্গে বিএনপি অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তারা তলে তলে না ভোটের ক্যাম্পেইন করেছে। গণভোটে ‘না’ এর পক্ষেই তারা প্রচারণা চালিয়েছে।

Advertisement

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং নাগরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং প্রতিনিধিত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ করা এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই পরে পরিবর্তন করা হয়েছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

Advertisement

মামুনুল হক বলেন, গণভোটে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিয়েছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে কেবল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল হবে। জনগণের ভোটে প্রদত্ত ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ বারবার তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা চব্বিশের জুলাই আন্দোলন- সবকিছুর মূলে ছিল মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন। সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হলে ভবিষ্যতেও জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের রায় ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা করা উচিত হবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ প্রমুখ।

Advertisement

আরিফুর রহমান/এনএইচআর