২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তার সতীর্থ রুবেন দিয়াস। পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের মতে, রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক কেবলই ‘শোরগোল’ যা দলের মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলছে না।
Advertisement
কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে গোলের দেখা পাননি রোনালদো। ৪১ বছর ১২৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে নামার রেকর্ড গড়লেও তার পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন যে তার আর শুরুর একাদশে থাকা উচিত নয়।
রোনালদোর সমালোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে দিয়াস বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য কোনো বিষয় নয়। এটি গুরুত্বহীন শুধু, একটু হইচই আর শব্দদূষণ। এগুলো খেলারই অংশ।’
কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে আল নাসরের এই তারকা ফরোয়ার্ডের তিনটি শটের মধ্যে তিনটিই অফ টার্গেট ছিল। ফ্রান্স ও আর্সেনালের কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরিও পর্তুগালের ড্রয়ের ম্যাচে রোনালদোর খেলা নিয়ে সমালোচনা করেছেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সবাই দয়া করে শোনো দলকে গোল করতে হবে, তোমাকে ন।’
Advertisement
তবে দিয়াস বলেন, রোনালদোর সমালোচনা নতুন কিছু নয় এবং এটি খেলাটিরই অংশ। ম্যানচেস্টার সিটির এই সেন্টার-ব্যাক বলেন, ‘প্রথমত, এই সমালোচনা শুধু একজন খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে নয়। ক্রিশ্চিয়ানো অবশ্যই বেশি আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা কেউই সমালোচনার বাইরে নই।’
দিয়াস আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে, আমি মনে করি না এখানে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে। আমি যখন থেকে এখানে আছি, তখন থেকেই এমন চলছে। ভবিষ্যতেও এটা চলবে বলে মনে করি, তাই এটা নতুন কিছু নয়।‘
তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু শব্দদূষণ। আমরা এসব থেকে নিজেদের আলাদা রাখি এবং নিজেদের কাজেই মনোযোগ দিই।’
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ম্যাচের পর বলেন, তাকে বদলি করা ‘কোনো অর্থই বহন করত না।’
Advertisement
দিয়াস জানান, এই সমালোচনা দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং দল এখনো ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমাদের কারও কাছেই এটা কোনো বিষয় নয়। আমরা সবাই বুঝি, কঠিন পরিস্থিতি ভালো কিছু, কারণ এই কঠিন সময়েই আমরা আমাদের আসল অবস্থানটা বুঝতে পারি। আমরা এটাকে ইতিবাচক কিছু করার সুযোগ হিসেবে দেখি। আমার মন এসব দিকে যায় না। যখন এসব কথা বলা হয়, আমি সেগুলোতে মনোযোগ দিই না। আমার মনে হয়, আমাদের কেউই এগুলোকে কোনো গুরুত্ব দিই না। এটা কোনো বিষয়ই হওয়াই উচিত নয়।’
পর্তুগালের কয়েকজন খেলোয়াড়, বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও ভিতিনহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ভক্তদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সমর্থক রোনালদোর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে অভিযোগ করেন যে কিছু সতীর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে পাস দিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে রুবেন দিয়াস বলেন, তিনি এসব আলোচনা খুব একটা খেয়াল করেননি। তার ভাষায়, ‘সত্যি বলতে আমি এসবের কিছুই দেখিনি। এগুলো মূলত গুঞ্জন আর জল্পনা ফল ভালো না হলে এমন আলোচনা আরও বেড়ে যায়। তবে এতে আমাদের আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব পড়ে না।’
‘কোনো টুর্নামেন্টই একেবারে নিখুঁত হয় না। আর হওয়াটাও উচিত নয়। আমার মতে, যত দ্রুত চ্যালেঞ্জ বা কঠিন পরিস্থিতি আসে, ততই ভালো। জেতার একমাত্র উপায় হলো দল হিসেবে প্রতিটা ম্যাচে উন্নতি করতে পারা। আমি কখনোই নিখুঁত পরিস্থিতি আশা করি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাটিতে পা রেখে এগিয়ে যাওয়া।’
চোটের কারণে কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারলেও দিয়াস এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মঙ্গলবার হিউস্টনে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তার শুরুর একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরএএইচইউএল/আইএন