আইন-আদালত

অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাড়াহুড়া করে বিচার শেষ করতে চাই না

ন্যায়বিচারের স্বার্থে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাড়াহুড়া করে বিচার শেষ করতে চান না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে নয়, বরং নিরপেক্ষভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার করতে চেষ্টা করছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাড়াহুড়া করে বিচার কার্যক্রম শেষ করতে চাই না। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় নিয়ে হলেও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার সম্পন্ন করতে চাই ‘

শনিবার (২০ জুন) ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন। আরও নতুন মামলা আসছে। একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে তিন থেকে চার মাস লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে আরও কম-বেশি সময়ও লাগে। স্বাভাবিক গতি যেভাবে বিচারকার্য চলার, ঠিক সেভাবেই করছি। যদিও মামলার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। প্রতিবেদনও দাখিল হচ্ছে। তাই এই দুটি ট্রাইব্যুনালের পক্ষে একটা সময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে যাবে। এজন্য ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন টিম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। বাড়ানো হতে পারে তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাও।’

Advertisement

আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালে কোনো অভিযোগ যাতে প্রতিহিংসামূলক, মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা পুনঃতদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় ফেরত পাঠিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমার হাত দিয়ে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার কোনো দোষীও যেন রেহাই না পান। আমি চেষ্টা করবো একটি অভিযোগও যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়। অর্থাৎ এসব যেন বিতর্কের জন্ম না দেয়। অতএব আমাদের এই বিচার কখনো যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়- সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। প্রতিটি অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির প্রমুখ।

এফএইচ/একিউএফ

Advertisement