বর্তমানে বিশ্বকাপে জাপান যেভাবে খেলছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। তাদের মাঠের পারফরম্যান্সে আছে শৃঙ্খলা, গতি আর অসাধারণ স্ট্যামিনা, তাই কোনো বাধাই তাদের থামাতে পারছে না। এই দুর্দান্ত ফর্ম শুধু প্রশিক্ষণ বা কৌশলের ফল নয়, বরং তাদের জীবনযাপনের ভেতরেও লুকিয়ে আছে কিছু বিশেষ অভ্যাস। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি অভ্যাস হলো খাবারের আগে ভিনেগার পান করা।
Advertisement
জাপানিরা দীর্ঘদিন ধরে আপেল সিডার ভিনেগার বা রাইস ভিনেগার পান করে আসছে। সাধারণত তারা খাবারের আগে ১-২ টেবিল চামচ ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে গ্রহণ করে। এই ছোট একটি অভ্যাসই তাদের ফিটনেস, হজমশক্তি এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
হজমশক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখেখাবারের আগে ভিনেগার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড হজম এনজাইমকে উদ্দীপিত করে, ফলে খাবার দ্রুত ভেঙে যায় এবং শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এতে করে পেট ভারী লাগা বা অস্বস্তির সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেভিনেগারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। এটি কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর করে দেয়, ফলে খাবারের পর রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যায় না। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার মাধ্যমে এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই বিশেষ করে ভারী খাবারের আগে ভিনেগার গ্রহণ অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে।
Advertisement
ভিনেগার ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে সক্রিয় রাখে, যা চর্বি বার্ন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত ও পরিমিতভাবে ভিনেগার গ্রহণ করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করেভিনেগার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করে। এই অন্ত্রের সুস্থতাকে বলা হয় গাট হেলথ। গাট হেলথ ভালো থাকলে শরীরের ফোলাভাব, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা কমে যায় এবং সামগ্রিক হজমক্ষমতা উন্নত হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিভিনেগারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পরিমিত ভিনেগার গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বকের জন্য উপকারিতাভিনেগার শরীরের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা ত্বকের জন্য উপকারী। এটি ব্রণ কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
Advertisement
ভিনেগার লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে, ফলে শরীর থেকে টক্সিন বের হতে সহায়তা হয়। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
সতর্কতাযদিও ভিনেগারের অনেক উপকারিতা রয়েছে, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। বেশি ভিনেগার পান করলে হজমের সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতিদিন অল্প পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে গ্রহণ করাই নিরাপদ।
জাপানিদের ফিটনেস ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাত্রার পেছনে তাদের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো বড় ভূমিকা রাখে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সাহায্য করে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মায়ো ক্লিনিক
এসএকেওয়াই