দেশজুড়ে

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

ফরিদপুরের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) মাদক বিক্রির অভিযোগে আটক হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Advertisement

রবিবার (২১ জুন) সকালের দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। তিনি ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে এনে জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়।

Advertisement

ছাত্রলীগ কর্মী ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার মির্জা আবু জাফর বলেন, ‘শনিবার দিনগত গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে। পরে সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্ত ব্রেনস্ট্রোকের শিকার হয়েছেন। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।’

Advertisement

এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রান্তকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, তিনি ব্রেনস্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। তারপরও মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এন কে বি নয়ন/ এফএ/এমএস