ভারতের মেঘালয় রাজ্যে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যের মাওসিনারাম গ্রামে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘালয়ের উজানে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগ) ও সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়িয়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
Advertisement
ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাওসিনরামে এক রাতেই যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত ভারতের রাজস্থান রাজ্যের শুষ্ক অঞ্চলগুলোর ছয় মাসেরও বেশি সময়ের বৃষ্টিপাতের সমান।
মেঘালয়ের অন্যান্য এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আরকেএম সোহরা এলাকায় ৪৭০ মিলিমিটার ও মাওকিরওয়াট এলাকায় ৩৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া শেল্লা এলাকায় ১০০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগর ও মাওরিংকনেং এলাকায় ৯০ মিলিমিটার করে, জোয়াই এলাকায় ৮০ মিলিমিটার এবং বারাপানি ও রাতাচেরা এলাকায় ৭০ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
Advertisement
টানা ভারী বর্ষণের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। শিলং থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ডাউকি পর্যন্ত সংযোগকারী জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিলং শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত লাইটলিংকট শহরের নিচের অংশে প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে সড়কের একটি অংশ ভেসে গেছে।
যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে সড়কটির ক্ষতির কারণে ডাউকির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ওই রুটে যানবাহন চলাচলেও প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের নদ-নদী ও হাওরাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। ফলে মাওসিনরামসহ উজানের এলাকাগুলোতে এ ধরনের অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
Advertisement
তারা বলছেন, বর্তমানে বন্যার কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও মেঘালয়ে স্বল্প সময়ে কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে যদি আগামী দিনগুলোতেও একই ধরনের ভারী বর্ষণ চলতে থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সেই কারণে মেঘালয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের উজাননির্ভর নদীগুলোর পানির প্রবাহও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে নর্থ-ইস্ট
এসএএইচ