২০২২ বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনা দলের মিডফিল্ডের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে দলে জায়গা পাকা করে রেখেছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। পোল্যান্ডের বিপক্ষে তার গোল এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ডি মারিয়ার দেওয়া গোলের অ্যাসিস্ট সবই এখনো ভেসে ওঠে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের স্মৃতিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও তাকে দেখা পুরো মিডফিল্ড নিজের আয়ত্তে রাখতে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে পুরো কৃতিত্ব তিনি মেসিকেই দিচ্ছেন।
Advertisement
দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে এই মিডফিল্ডার আসন্ন ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন। আলজেরিয়াকে বিধ্বস্ত করার ঘটনাটি বিশ্লেষণ এবং অধিনায়কের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল যারা সবসময় আরও বেশি কিছু চায়। আপনারা তা দেখতেই পাচ্ছেন। ফুটবল অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে, কিন্তু আমাদের একমাত্র চ্যালেঞ্জ হলো জেতা।’
লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘আমরা সেরাটাই চাই। বিশ্বকাপ শুরু হলে মানুষের মধ্যে যে উত্তেজনা দেখা যায়, তা আমরা দেখতে পাই। এই যাত্রা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা প্রতিদিন উপভোগ করবো, অনুশীলন করবো, উন্নতি করবো, ধাপে ধাপে আগাবো এবং আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।’
অস্ট্রিয়া সাধারণত প্রেস করে খেলতে পছন্দ করে। তাদের অতিমাত্রায় প্রেসের কারণে প্রতিপক্ষ খাবি খেয়ে পড়ে, যার দরুণ গোল খেয়ে বসে। এই দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ‘আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স’ এবং ‘বোকা জুনিয়র্সের’ প্রাক্তন এই খেলোয়াড় অবগত আছেন। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে তাদের সাথে আমি ততটা পরিচিত ছিলাম না, তবে আমরা কিছু ভিডিও দেখেছি।’
Advertisement
তিনি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘তারা খুবই শারীরিক শক্তিসম্পন্ন একটি দল। তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে এবং তারা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা খেলে। আমাদের শক্তি দিয়ে আমরা সবসময় যেভাবে খেলি সেভাবেই খেলার চেষ্টা করবো। পরিস্থিতি বুঝে জানবো যে তারা চাপ দিলে লম্বা পাস খেলবো নাকি আরেকটু সরাসরি খেলবো। আশা করি, সবকিছু ভালোভাবে চলবে এবং একটি ভালো ম্যাচ হবে।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের গোলগুলো সম্পর্কে এই ফুটবলার বলেন, ‘প্রথমটা ছিল অনেকটা থ্রু বলের মতো। আমি দেখলাম লিও আমার পেছনে ছিল। আমি কীভাবে বলটা যেতে দিলাম তা নিয়ে কথা হচ্ছিল। কিন্তু যারা ফুটবল খেলেছে তারা জানে যে রদ্রিগো (ডি পল)-এর পাসে কতটা শক্তি থাকে এবং আমি খুব ভালো করেই জানি যে ওটা আমাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় বলটার ক্ষেত্রে আমি আরেকটু বেশি সচেতন ছিলাম। এই বলটা দ্রুতগতির, নড়াচড়া করে এবং এটা গোলরক্ষকদের জন্য কঠিন। আমরা হাফটাইমে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং যখন বলটা আমার কাছে এলো, আমি দ্বিধা করিনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তৃতীয় গোলটি ছিল একটি চমৎকার গোল যা ডান দিক থেকে শুরু হয়ে লিওকে একটি ব্যাক পাস দেওয়ার মাধ্যমে বাম দিকে শেষ হয় এবং তারপর গোলপোস্টের পাশে বলটি রাখার জাদুকরি ভঙ্গি। এটি লিওর করা অবিশ্বাস্য কাজগুলোর মধ্যে আরেকটি।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্স তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে এবং ম্যাক অ্যালিস্টার তার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘লিওর খেলা দেখতে আমার সত্যিই খুব ভালো লাগে। তার মতো আর কেউ হবে না। তার খেলা দেখাটা খুবই অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। সে যা করে তা অসাধারণ। আমার দৃষ্টিতে, আমি কেবল এর সদ্ব্যবহার করতে চাই। আমাদের জেতাটা খুব জরুরি এবং অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। সে যা করে তা থেকে শেখা খুব কঠিন। কারণ আপনি বিষয়টি মাথায় রাখেন, কিন্তু বাস্তবে আপনি কখনোই সেভাবে তা করতে পারবেন না। তার কাছ থেকে আমি যা শিখি তা হলো তার মূল্যবোধ এবং নম্রতা। বিশেষ করে তার মতো একজন মানুষের জন্য।’
Advertisement
তিনি শুধু মেসির সাথেই খেলেননি বরং তার বাবা কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টারও ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার সতীর্থ ছিলেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের জগতে আমরা খুবই ভাগ্যবান একটি পরিবার। কারণ আমার বাবা ম্যারডোনার সাথে এবং আমি মেসির সাথে খেলেছি৷ স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করি কিন্তু সবার এই সুযোগ হয় না। আমার বাবার জন্য ম্যারাডোনা শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তারা সবসময় খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। একসাথে সময় কাটাতে খুব উপভোগ করতেন এবং তিনি আমাকে সবসময় বলেন ডিয়েগো কীভাবে তাকে সাহায্য করেছিলেন বা তারা কতটা মজা করতেন। কিছু গল্প বলার মতো নয়। কিন্তু আমার বাবা তার সম্পর্কে শুধু ভালো কথাই বলেন। তিনি তার সাথে কাটানো সময়টা পুরোপুরি উপভোগ করেছেন।’
আরআর/আইএন