অর্থনীতি

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের জটিলতা কাটলো

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ সভা করার জন্য বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে কোম্পানিটি এখন পর্ষদ সভা করে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পাশাপাশি সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

Advertisement

রোববার (২১ জুন) বিএসইসি থেকে কোম্পানিটিকে এই বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (২২ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে বোর্ড সভার আয়োজন করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

এই বোর্ড সভায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার পাশাপাশি চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকের অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করতে পারবে।

জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস তালিকাচ্যুতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ২ জানুয়ারি থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটারি রিসিপ্টস (জিডিআর) লেনদেন স্থগিত রয়েছে।

Advertisement

এআইএমের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজের লেনদেন টানা ছয় মাস বন্ধ থাকলে তার তালিকাভুক্তি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের লন্ডন-তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগকারী ছয়টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেন।

আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংক ছুটছে, ক্রেতা সংকটে ধুঁকছে বেক্সিমকো

চিঠিতে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন এবং বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে পর্ষদ সভা কমার বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হলো।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক তথ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস জানায়, এআইএম রুল-১৯ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব নির্ধারিত সময়সীমা, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সময়মতো প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে লন্ডনের বাজারে কোম্পানিটির জিডিআর লেনদেন বন্ধ থাকবে।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী এখনো লন্ডনের পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এআইএম রুলস ফর কোম্পানিজ-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী, এআইএম তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিকে তার অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও হিসাব প্রকাশ করতে হয়।

Advertisement

৪১ ধারা অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজ (শেয়ার বা অন্যান্য তালিকাভুক্ত আর্থিক উপকরণ) যদি টানা ছয় মাস ধরে লেনদেনের জন্য স্থগিত অবস্থায় থাকে, তাহলে সাধারণত লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের লেনদেনের অনুমোদন বাতিল করে দেয়, যদি স্থগিত থাকার মূল কারণগুলো সমাধান না করা হয়।

আগামী ২ জুলাই সেই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হবে। এই সময় শেষ হওয়ার আগেই বিএসইসি থেকে পরিচালনা পর্ষদ সভা করার অনুমোদন পাওয়ায় এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করায় এই শঙ্কা অনেকটাই কেটে গেলো। এখন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না ঘটলে মঙ্গলবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার পাশাপাশি ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, বিএসইসি থেকে বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ২৩ জুন পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বকেয়া সব প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লভ্যাংশও ঘোষণা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন কমেছে সুদ ব্যয় / জেলে সালমান এফ রহমান, মুনাফায় উন্নতি বেক্সিমকো ফার্মার

যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, বেক্সিমকো ফার্মার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে কমিশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি এখন পর্ষদ সভা আয়োজন করে বকেয়া আর্থিক প্রতিবেদনগুলো অনুমোদন ও প্রকাশ করতে পারবে।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুধু একটি নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা জানতে পারবেন, পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের পথও উন্মুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বেক্সিমকো ফার্মার মতো একটি ভালো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সময়মতো আর্থিক তথ্য প্রকাশ দেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদেশে তালিকাভুক্ত জিডিআরধারী বিনিয়োগকারী এবং দেশের সাধারণ শেয়ারধারীদের স্বার্থও এতে সুরক্ষিত হবে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং সে বিবেচনায়ই কোম্পানির সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—যোগ করেন তিনি।

এমএএস/এমকেআর