দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও বর্তমান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় জগতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই তারকা আজ শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, গোটা ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা ও রাজনীতিক।
Advertisement
আজ (২২ জুন) বিজয়ের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ফিরে দেখা যাক তার সংগ্রাম, সাফল্য এবং আলোচিত জীবনের নানা অধ্যায়।
সিনেমার পরিবারেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিজয়ের। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল চলচ্চিত্রের পরিচিত নির্মাতা। বাবার পরিচালিত ১৯৮৪ সালের সিনেমা ভেটরিতে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার।
এক সাক্ষাৎকারে এস এ চন্দ্রশেখর জানিয়েছিলেন, সেই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য মাত্র ৫০০ রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন বিজয়। তখন কেউ কল্পনাও করেনি, এই শিশুশিল্পী একদিন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হয়ে উঠবেন।
Advertisement
নব্বইয়ের দশকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করলেও ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঘিল্লি সিনেমা বিজয়ের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ছবিটি তাকে ‘মাস হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
এরপর কাথি, মার্সাল, বিগিল, লিওসহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। বিশেষ করে সমাজের নানা অসঙ্গতি ও জনজীবনের সমস্যা নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও জনপ্রিয় করে তোলে।
বর্তমানে ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন বিজয়। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার শেষ সিনেমা হিসেবে প্রচারিত জন নায়গন ছবির জন্য তিনি প্রায় ২২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। মাত্র ৫০০ রুপির পারিশ্রমিক থেকে ২২০ কোটিতে পৌঁছানো তার এই যাত্রা ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সাফল্যের গল্প।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বিজয়। দীর্ঘদিন ধরেই তার বক্তব্য ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অভিনয় ছেড়ে পুরো সময় রাজনীতিতে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
Advertisement
বিশ্লেষকদের মতে, ভক্তদের বিশাল নেটওয়ার্কই তাকে রাজনীতিতে শক্ত ভিত গড়ে দিতে সহায়তা করেছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়ে বর্তমানে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজয়ের শেষ সিনেমা জন নায়গন এখন মুক্তির অপেক্ষায়। ছবিটি শুধু একটি বাণিজ্যিক সিনেমা নয়, অনেকের মতে এটি তার রাজনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন। সিনেমার একটি আলোচিত সংলাপ- ‘রাজনীতিতে এসেছি লুটপাট করতে নয়, সেবা করতে’- এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬০৩ কোটি রুপি। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে চেন্নাইসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি, কোদাইকানালে কৃষিজমি, ব্যাংক হিসাবে ২১৩ কোটির বেশি অর্থ এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার মোট আয় ছিল ১৮৪ কোটিরও বেশি। আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অভিনয়, সুদ এবং বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া।
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও খবরের শিরোনাম হয়েছেন বিজয়। দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গম বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি। যদিও এ নিয়ে বিজয় বা সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন:ভয়ে কাঁপছিল শুটিং ইউনিট, তারপর হাসলেন সালমান প্রেমিকের নামেই চমক দিলেন জাহ্নবী
সব মিলিয়ে ৫০০ রুপির পারিশ্রমিক পাওয়া এক শিশুশিল্পী থেকে ৬০৩ কোটির সম্পদের মালিক এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্পটি নিঃসন্দেহে ভারতীয় বিনোদন ও রাজনীতির ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায়।
এমএমএফ