বজ্রঝড়ের কারণে আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে ফ্রান্স এবং ইরাকের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর আবারও গোল পেলো ফ্রান্স এবং এই গোলটিও করলেন কিলিয়ান এমবাপে।
Advertisement
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হলো। এবার এই গোলটি করলেন ওসমান ডেম্বেলে। যানপ্রান্ত থেকে তার কোনাকুনি শটটি গিয়ে জড়িয়ে যায় ইরাকের জালে। ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলো ফ্রান্স।
জোড়া গোল করে লিওনেল মেসির পর এবার জার্মান কিংবদন্তী মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন কিলিয়ান এমবাপেও। বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যাও এখন ১৬টি।
এবারের ফুটবল বিশ্বকাপটা কি তবে লিওনেল মেসি বনাম কিলিয়ান এমবাপের গোলের লড়াই হতে যাচ্ছে? এরই মধ্যে দুই ম্যাচে ৫ গোল করে লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন। ১৮টি গোল তার।
Advertisement
অন্যদিকে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপেও। ১২ গোল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা এমবাপে প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন জোড়া গোল। তার মোট গোল হয়েছিল ১৪টি।
এবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে দুটি গোল করলেন এমবাপে। ১৪তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের দুর্দান্ত এক শটে ইরাকের জালে বল জড়ান এমবাপে। ৫৪তম মিনিটে ইরাকের ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে সহজেই তাদের জালে বল জড়িয়ে দিলেন এমবাপে।
এ নিয়ে তার গোল হয়ে গেলো ১৬টি। ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওকে পেছনে ফেলেন তিনি। সমান হয়ে গেলেন ক্লোসার। তার সামনে রয়েছেন এখন কেবল লিওনেল মেসি (১৮ গোল)।
ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপেকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন আমির আল-আম্মারি। ফলে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ইরাকি মিডফিল্ডার। এরপর থেকেই ফ্রান্স ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
Advertisement
১৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান দিক থেকে মাইকেল ওলিসে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপের কাছে। ফরাসি অধিনায়ক বল পেয়ে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে ইরাক গোলরক্ষক বাসিলকে পরাস্ত করেন। দুর্দান্ত এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের ১৫তম গোল করেন এমবাপে।
গোলের পর ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। ওলিসে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট করেন এবং জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচে পাঁচটি গোল অবদানে (তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্ট) পৌঁছে যান। প্রথম ১৫ মিনিটে ফ্রান্সের বল দখলের হার ছিল ৬৫ শতাংশ।
তবে ইরাকও সুযোগ তৈরি করেছে। ২৮তম মিনিটে দোস্কির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি হিসেবে নামা আলি আল-হামাদি হেড নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ৩০ মিনিটে সালিবার জন্য অস্বস্তিকর এক বল সামলে নিয়ে কর্নার আদায় করেন আল-হামাদি। ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার সমস্যায় ফেলেছেন তিনি।
মাঝমাঠে জিদান ইকবালও নজর কেড়েছেন। ৩৫তম মিনিটে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা নিজের অর্ধে কয়েকজন ফরাসি খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দারুণ এক ড্রিবল করেন, যা গ্যালারিতে থাকা ইরাকি সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলে।
অন্যদিকে ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ৪২তম মিনিটে এমবাপে অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে হুসেইন আলি দুর্দান্ত ট্যাকলে বিপদ সামাল দেন।
আইএইচএস/