বিশ্বকাপে ফ্রান্স দারুণ ছন্দে থাকলেও কোচ দিদিয়ের দেশম, কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে দিতে রাজি নন তার খেলোয়াড়দের। জয়ের মধ্যেও তিনি খুঁজছেন ভুল, আর তারকাখচিত দলকেও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ফ্রান্স দলে জায়গা কিংবা একাদশে থাকার কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই।
Advertisement
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেশম একাধিক পরিবর্তন এনে আবারও বুঝিয়ে দেন, নাম নয়, পারফরম্যান্সই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেনেগালের বিপক্ষে জয়ের পরও তিনি একাদশে তিনটি পরিবর্তন করেন। থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি ও দেজিরে দুয়ের জায়গায় সুযোগ পান লুকাস দিনে, মানু কোনো এবং ব্র্যাডলি বারকোলা।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশমের এই কঠোরতা নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফরাসি দলে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন, যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়কে প্রতিদিন নিজের জায়গা প্রমাণ করতে হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও তিনি কাউকে বিশেষ সুবিধা দিতে নারাজ।
ফ্রান্সের বর্তমান স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসের মতো তারকা থাকলেও দেশম বারবার দলগত শৃঙ্খলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তার বিশ্বাস, শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধই বড় টুর্নামেন্ট জেতার মূল চাবিকাঠি।
Advertisement
ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পরও দেশমের বার্তা ছিল স্পষ্ট — ফ্রান্স এখনও নিখুঁত নয়। দলের উন্নতির জায়গা আছে এবং শিরোপার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সবাইকে একই মানসিকতা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপই দেশমের শেষ বড় টুর্নামেন্ট হিসেবে ধরা হচ্ছে। তাই বিদায়ের আগে তিনি আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। আর সেই মিশনে তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র শুধু এমবাপে বা দেম্বেলের প্রতিভা নয়, বরং একটি কঠোর, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ দলীয় পরিবেশ।
টিটিটি/আইএন
Advertisement