বিশ্বকাপের মঞ্চে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তারা। গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়া ম্যাচে ঘানাকে একটি স্পষ্ট পেনাল্টি না দেওয়ার অভিযোগে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাবেক রেফারি থেকে শুরু করে ঘানার কোচ—অনেকেই মনে করছেন, ইংল্যান্ড ভাগ্যবান বলেই শাস্তি এড়িয়েছে।
Advertisement
মঙ্গলবার বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ঘানা। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ঘানার প্রিন্স আদু গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসা পিছন থেকে ট্যাকল করেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, কনসা বল স্পর্শ না করে আদুর হাঁটুতে আঘাত করেন। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআরও দেখেননি। এই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় বিতর্ক। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি মার্ক হ্যালসি মন্তব্য করেন, 'কনসা অবিশ্বাস্য রকম ভাগ্যবান ছিল। এটি পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল।' তাঁর মতে, ফাউলটি অফসাইডের আগেই সংঘটিত হয়েছিল, ফলে অফসাইডের অজুহাতে ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজও ক্ষোভ লুকাননি। ম্যাচ শেষে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, 'মনে হচ্ছে ভিএআর কফি খেতে গিয়েছিল।' তাঁর দাবি, শুধু পেনাল্টিই নয়, ঘটনাটি লাল কার্ডের দাবিও রাখতে পারত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি একই ঘটনা উল্টো প্রান্তে ঘটত, তাহলে কি সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতো? বিশ্বকাপের মতো আসরে ভিএআর থাকার পরও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও রেফারিংয়ের মান নিয়ে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য এই ড্র হতাশার। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ঘানাকে হারাতে পারলে নকআউট পর্ব প্রায় নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু আক্রমণে ধারহীনতা এবং বিতর্কিত মুহূর্তে ভাগ্যের সহায়তায় এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থমাস টুখেলের দলকে।
ফলে ম্যাচ শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং বিশ্বকাপে রেফারিং ও ভিএআর ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার আগুন জ্বলে উঠেছে। আর সেই আগুনের কেন্দ্রে রয়েছে এক প্রশ্ন—ঘানার প্রাপ্য পেনাল্টি কি সত্যিই কেড়ে নেওয়া হয়েছে?
Advertisement
এসকেডি/এএসএম