আন্তর্জাতিক

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা, অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ১১১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ ভেনেজুয়েলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বুধবার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করবে। এই অর্থ অবকাঠামো, হাসপাতাল ও আবাসন পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হবে।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র, আঞ্চলিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থ প্রেরণ, বিদেশি বিনিয়োগ ও নির্মাণসামগ্রী আমদানি সহজ করতে নিষেধাজ্ঞার কিছু শর্ত শিথিল করার প্রয়োজন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জরুরি সহায়তার জন্য উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুরোপুরি সক্রিয় করেছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ১৮ টন উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। রাজধানী কারাকাসে ধ্বংসস্তূপ সরাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্যোগ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ার সুযোগ রয়েছে, কারণ দেশটির তেল স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি।

Advertisement

ভূমিকম্পের আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতি ছিল সংকটপূর্ণ। দেশটির প্রায় ৩ কোটি ১৭ লাখ মানুষের মধ্যে ২ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছিলেন। খাদ্য, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটও ছিল প্রকট। অনেক হাসপাতালে নিয়মিত বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও নেই।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য সপ্তাহের বাকি সময়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভূমিকম্পের প্রভাব তেল ও গ্যাস খাতে তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ভেনেজুয়েলার প্রধান তেল স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া শেল, এনি ও রেপসল জানিয়েছে, তাদের সব কর্মী নিরাপদ আছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেল অবকাঠামো অক্ষত থাকায় অর্থনৈতিক ক্ষতির তুলনায় মানবিক বিপর্যয়ের প্রভাবই বেশি গভীর হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম