ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস (BoP) এর মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় পরিচালিত কর্মকাণ্ডের আইনি দায়মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খসড়ার ‘থার্ড পার্টি লাইয়াবিলিটি/ক্লেইমস’ শীর্ষক অংশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শনিবার (২৭ জুন) যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত একটি ফাঁস হওয়া খসড়া প্রস্তাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।
Advertisement
প্রতিবেদনে বলা হয়, চার পৃষ্ঠার ওই খসড়া প্রস্তাবে বোর্ডের সব সদস্যকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদিত এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনিক সংস্থার উদ্দেশ্য হচ্ছে- গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
গার্ডিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সংবেদনশীল কিন্তু গোপনীয় নয়’ হিসেবে চিহ্নিত খসড়ায় বলা হয়েছে, গাজায় কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক বা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
খসড়া অনুযায়ী, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকবেন হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের (OHR) সদস্য, ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট, গাজায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতে থাকা আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ঠিকাদাররা। এতে আরও বলা হয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন সাপেক্ষে কোনো সদস্যের দায়মুক্তি প্রত্যাহার করার ক্ষমতা রাখবেন।
Advertisement
ফাঁস হওয়া খসড়াটি পর্যালোচনা করা আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গাজায় সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট।খসড়ার ‘থার্ড পার্টি লাইয়াবিলিটি/ক্লেইমস’ শীর্ষক অংশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে আন্তর্জাতিক আইনসহ বাইরের কোনো ধরনের তদারকির সুযোগ রাখা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খসড়ার একটি ধারা বোর্ডকে মিশনের প্রয়োজনে গাজায় যেকোনো সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যবহার করার ক্ষমতা দিতে পারে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন বিশেষজ্ঞ এমিলি শ্যাফার ওমের-ম্যান বলেন, খসড়াটি দেখে মনে হচ্ছে বোর্ড এবং এর সব সদস্যকে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস-এর সহযোগী নীতিনির্ধারণ পরিচালক ব্র্যাড পার্কার বলেন, বোর্ডের আইনি ক্ষমতা নিয়ে খসড়ায় স্পষ্টতা নেই। পাশাপাশি ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ‘স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট’ না থাকাও বড় একটি সমস্যা।
Advertisement
তবে, বোর্ড অব পিস খসড়ার এসব দাবিকে অস্বীকার করেছে। গার্ডিয়ানকে বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদনে বর্ণিত ধরনের কোনো আইনি দায়মুক্তির কাঠামো নেই।
বোর্ডের ওই কর্মকর্তা বলেন, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য আইনহীনতা বা দায়মুক্তি নিশ্চিত করা—এমন দাবি ভুল, বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।
এছাড়া ট্রাম্পের এককভাবে সদস্যদের দায়মুক্তি প্রত্যাহারের ক্ষমতা থাকবে—এ দাবিও তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, বোর্ড নিশ্চিত করবে যে সব কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অংশগ্রহণকারী সংস্থা প্রযোজ্য আইন মেনে চলবে এবং স্পষ্ট নিয়ম, তদারকি ও জবাবদিহির আওতায় কাজ করবে।
কেএম