দেশজুড়ে

ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরি, নিরাপত্তাকর্মী গ্রেফতার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম ও কালেকশন বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

রোববার (২৮ জুন) সকালে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে তাকে রংপুর থেকে টাকাসহ গ্রেফতার করে সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ।

মামলার বাদী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চকবাজার শাখার কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, আইয়ুব আলী প্রায় দুই বছর ধরে সীতাকুণ্ড আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ও কালেকশন বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের সুবাদে বুথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চাবি সংরক্ষণ ও অর্থ লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন দুপুরে বুথের কর্মকর্তা নামাজ ও খাবারের বিরতির জন্য সাময়িকভাবে বুথে তালা লাগিয়ে বাইরে যান। বিকেলে ফিরে এসে ক্যাশ গণনার সময় এক হাজার টাকার ১৭টি বান্ডেল মোট ১৭ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে বুথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইয়ুব আলী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা নকল চাবি ব্যবহার করে বুথে প্রবেশ করেন। এরপর ক্যাশ ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো একটি ব্যাগে ভরে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

Advertisement

জানা যায়, ঘটনার পর সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। প্রথমে কক্সবাজারে আইয়ুব আলীর নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এক নারীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে তার অবস্থান রংপুরে শনাক্ত করা হয়। এরপর রংপুরের একটি বাস কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তিনি ওই নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অবশিষ্ট টাকার কিছু অংশ বিভিন্ন কেনাকাটায় ব্যয় করার এবং কিছু অর্থ ওই নারীকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ কক্সবাজারে আইয়ুব আলীর বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে নিবৃত্ত করেন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, আইয়ুব আলীর প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। গত সাত থেকে আট বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতেন না। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্যের বাসায় কাজ করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement

এম মাঈন উদ্দিন/কেএইচকে/এমএস