খেলাধুলা

জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারানোর কৌশল জানালেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক

প্যারাগুয়ের জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি সেভ করে টাইব্রেকারে দলকে জিতিয়ে শেষ ষোলোতে তোলেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচ জয়ের পর জার্মানকে রুখে দেওয়ার কৌশল জানান তিনি।

Advertisement

প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল জানিয়েছেন, জার্মানির প্রতিটি পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করাই সোমবার রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে টাইব্রেকারে জার্মানিকে হারিয়ে কোয়ালিফাই করার মূল চাবিকাঠি ছিল।

গিল দুটি পেনাল্টি ঠেকান। তিনি কাই হাভার্টজ এবং নিক ভল্টেমাডের শট রুখে দেন। এছাড়া জোনাথান তাহের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচ শেষে পেনাল্টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গিল জানান, কীভাবে তিনি সেই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, ‘আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়, তাদের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিটি খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেছি। আমি দুটি পেনাল্টি ঠেকাতে পেরেছি, যা আমাদের কোয়ালিফাই করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

২৬ বছর বয়সী গিল বর্তমানে আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোর হয়ে খেলেন। সোমবারের ম্যাচটি ছিল প্যারাগুয়ে জাতীয় দলের হয়ে তার দশম ম্যাচ। তিনি সাবেক বোটাফোগো গোলরক্ষক গাতিতো ফার্নান্দেজকে পেছনে ফেলে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে মূল একাদশে জায়গা করে নেন। আর এই সুযোগটি পরোক্ষভাবে সম্ভব হয় কোস্টারিকার কিংবদন্তি গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের কারণে, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।

Advertisement

অভিজ্ঞ নাভাসকে সান লরেঞ্জো প্রথম পছন্দ হিসেবে দলে ভেড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু ক্লাবটির আর্থিক সংকট সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। ফলে অরল্যান্ডো গিল প্রথমবারের মতো একটি বড় ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান এবং এরপর থেকে তিনি আর নিজের জায়গা হারাননি।

সান লরেঞ্জোতে নিয়মিত সুযোগ পাওয়ার আগে তিনি রিজার্ভ দলে খেলেছেন। বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা পূর্ণ থাকায় অভিষেকের জন্য তাকে পুরো এক সেমিস্টার অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি ৪৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৪৩টি গোল হজম করেছেন।

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতির সময়ও গিলের মূল একাদশে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তিনি গাতিতো ফার্নান্দেজ এবং গাস্তোন অলিভেইরার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগের দিন নিকারাগুয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলার পর তার মূল একাদশে থাকা নিশ্চিত হয়।

যদিও উদ্বোধনী ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে বড় ব্যবধানে হেরেছিল প্যারাগুয়ে, তবুও কোচ গুস্তাভো আলফারো গিলের ওপর আস্থা রাখেন। এরপর তিনি তুরস্কের বিপক্ষে জয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি। গ্রুপ পর্ব শেষে ফিফার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনি সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন।

Advertisement

আরআর/আইএন