দেশজুড়ে

ড্রেন ভরাট করায় পানিবন্দি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৪০ পরিবার

যশোরের শার্শায় রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আল-মাদিনাতুল ফোরকানিয়া কওমি মাদরাসা সংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং আশপাশের অন্তত ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে ওই স্কুল মাঠে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদরাসায় চলাচলের প্রধান সড়ক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয়রা জানান, এ এলাকায় দীর্ঘদিনের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে ২০২১ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু প্রায় ৫০০ ফুটের একটি পাকা ড্রেন নির্মাণ করেন। ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে এলাকার পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে পারভিন নামে স্থানীয় এক নারী তার নিজ জমি বরাবর ড্রেনের অংশটি সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। এরপর থেকেই মূলত এই কৃত্রিম ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে|

রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘বর্তমানে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন কমিটি গঠনের পর সবার সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Advertisement

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পারভিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মামা ইমানুর রহমান ড্রেন ভরাটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, পারভিনের মালিকানাধীন ৫ শতক জমির ওপর দিয়ে এই ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। ব্যক্তিগত কারণে সে এখন আর তার জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দিতে রাজি না।

এদিকে, একটি ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। বর্ষার পানি জমে থাকায় একদিকে যেমন মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে তারা|

স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থ ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি। অবিলম্বে তারা এ অবৈধ ভরাট অপসারণ করে ড্রেনটি উন্মুক্ত করতে এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রেহানা বানু বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানিনা, সাংবাদিকের মাধ্যমে জেনেছি। আমি কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সাথে কথা বলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’

Advertisement

তিনি আরও বলেন, ‘ড্রেন মাটি দিয়ে ভরাটের কারণে শিক্ষার্থীসহ ৪০টি পরিবারের পানিবন্দি হওয়ার খবরটি জানতে পেরে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন আদালত।’

যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আছাদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিচারক ঘটনা পর্যালোচনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ১২ ও ১৬ ধারাসহ পেনাল কোডের ২৯০ ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে মর্মে সন্দেহের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। যা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্ত করে আগামী ১ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মো. জামাল হোসেন/এফএ/এএসএম