আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে ট্রাম্পের দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের অনুরোধে দুই পক্ষ দোহার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
Advertisement
বাঘাই বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের কাতার সফরের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের দোহা যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন বাঘাই। তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ওই সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত সব প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে নিজেদের দাবি বাস্তবায়নে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে ১৪ জুন একটি সমঝোতা স্মারক ভার্চুয়ালি স্বাক্ষর করে দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
Advertisement
সূত্র: ইরনা
কেএম