দেশের আদালত ও আইনি প্রক্রিয়া শেখ হাসিনা একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
Advertisement
তিনি বলেন, এখন এখান থেকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে হবে। আইনজীবীদের এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আদালত যেন হাসিনার আদালতে পরিণত না হয়।
বুধবার (১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। এদিন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মোহাম্মদ আলীকে এই সংবর্ধনা দেন।
রিজভী বলেন, ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার আমাদের সমাজ এবং কৃষ্টি-কালচারের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবেই রয়েছে, আইডিয়া অব জাস্টিস আছে। এই জাস্টিসের ধারণার কারণেই আমরা নীতি, ন্যায্যতা শব্দ পেয়েছি। এটা একদিনে তৈরি হয়নি; দেড় হাজার বছর আগে, ২ হাজার বছর আগেই এই শব্দ আমরা পেয়েছি।
Advertisement
তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশি সমাজ বা টোটাল বাঙালি সমাজে এই নীতি, ন্যায্যতা অনেক পুরোনো। এটা ব্রিটিশরা আমাদের শিখিয়েছে তা নয়, এই জাস্টিসের ধারণা, ন্যায়বোধের ধারণা, ন্যায় বিচারের ধারণা বহু প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সমাজে, ইতিহাসে, ঐতিহ্যে রয়েছে; সেই ন্যায়বিচারকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর দায়িত্ব বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের।
এই বিএনপি নেতা বলেন, আমরা যেমন দেখেছি যে, শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসতো, অ্যাটর্নি জেনারেলের কলম থেকে জজদের রায় আসতো। সেই পরিস্থিতি এখন আর অব্যাহত রাখা যাবে না, সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি হবে না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে আমি আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখছি। ট্রাফিক সিগন্যালে তিনি দাঁড়িয়ে গেছেন গোটা বহর নিয়ে, এটা তো সুশাসনের একটি ইঙ্গিত। এর পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে। সমাজের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আইনজীবীদের।
সংগঠনের সহ-সভাপতি জাহারিয়া হায়দারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেব সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু জাফ খান।
Advertisement
এফএইচ/ইএ