খেলাধুলা

সাদা বলের দলে সুযোগ পাবেন সোহান, টেস্টে অনিশ্চিত এবাদত!

এদিকে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের পরাজয়ের পরপরই শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। যে সিরিজে দলে কটি পরিবর্তন ঘটেছে। মিডল অর্ডারে শামীম পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে আবার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আর ইয়াসির আলী রাব্বিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

Advertisement

সঙ্গে নুরুল হাসান সোহানকেও মিডল অর্ডার কাম উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হয়েছে। মোটকথা, মিডল অর্ডারে তিন-তিনজন পুরোনো পারফরমারের ওপর আস্থা নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের।

সেখানেই শেষ নয়। মাঝে কয়েকটি সাদা বলের সিরিজে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলা আব্দুল গাফফার সাকলাইনের পাশাপাশি আবার সাইফউদ্দীনকেও দলে ফেরানো হয়েছে। এই নির্বাচনগুলো বলে দিচ্ছে, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট টি-টোয়েন্টি সিরিজে মিডল অর্ডারকে শক্ত, পাকাপোক্ত করে দল সাজানোর চেষ্টা করেছে।

কেন মিডল অর্ডারে এতগুলো প্রতিষ্ঠিত ও পরিণত পারফরমারকে দলে নেওয়া? টপ অর্ডারে কি নতুন কাউকে রাখা যেত না? বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মেতে থাকা টাইগার সমর্থকদের কারও কারও মনে এ দুটি প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে।

Advertisement

সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। জাগো নিউজকে তার ব্যাখ্যা, ‘আমরা আসলে টপ অর্ডারে হাত দিইনি। টপ অর্ডারে আপাতত রদবদল করিনি। এখনো তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান আর পারভেজ হোসেন ইমনকে রেখেই দল সাজিয়েছি।’

এটুকু বলার পর প্রধান নির্বাচক নিজ থেকেই তরুণ মারকুটে ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহানের নাম বলে ওঠেন। তার সোজাসাপ্টা উচ্চারণ, ‘হাবিবুর রহমান সোহানের দিকে আমাদের চোখ আছে। সে আমাদের বিশেষ বিবেচনায়ও আছে। আমরা তাকে ভবিষ্যৎ ওপেনার হিসেবে ভাবছি। তবে তার আগে হাই পারফরম্যান্স ইউনিট আর এ- দলে রেখে আরও একটু হাত পাকানোর সুযোগ দিতে চাই।’

সোহান আগামীতে এইচপি দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া যাবে। তাকে আমরা খুব ভালোভাবেই পর্যবেক্ষণে রেখেছি। খুব শীঘ্রই তাকে হয়তো মূল দলে দেখা যেতে পারে।

মিডল অর্ডারে আপাতত নতুন কারও অন্তর্ভুক্তি না ঘটানোর কারণ ব্যাখ্যা করে হাবিবুল বাশার বলেন, "যেহেতু শামিম পাটোয়ারি নেই, তাই আমরা পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত পারফরমারদেরকেই রেখেছি।’

Advertisement

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং নিয়েও হতাশ প্রধান নির্বাচক। তার কথা, ‘খালেদ, এবাদত আর হাসান মাহমুদ কিন্তু সেকেন্ড সারির বোলার নন। তারা বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইন পেসার। তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তাসকিন আর নাহিদ রানার বাইরে ওই তিনজনই টেস্টের ফ্রন্টলাইন পেসার। অতীতে তারা বেশ কিছু টেস্ট খেলেছেও। তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। তারা তা মেটাতে পারেনি। হাসান মাহমুদ কাউন্টিতে দুর্দান্ত বোলিং করার পর হারারে টেস্টে নির্বিষ বোলিং করল। মেলানো গেল না।’

এবাদতের ব্যাপারে হাবিবুল বাশারের আক্ষেপটা বেশি। তার মূল্যায়ন, ‘এবাদত ছিল টেস্ট দলের নিয়মিত বোলার। আমরা চেয়েছিলাম সে ইনজুরিমুক্ত থেকে নিজেকে আবার ফিরে পাক। তাই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন যেন নিজেকে ফিরে পেতে বেশ ভুগছে এবাদত।’

এরপর আর কিছু বলা থেকে বিরত থেকেছেন প্রধান নির্বাচক। তবে হাবভাবে যা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাতে করে আগামীতে এনসিএল আর বিসিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে এবাদতের টেস্ট দলে থাকার সম্ভাবনা খুব কম।

এআরবি/আইএইচএস/