ডাবলিনপ্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশে ভারতীয়রা কীভাবে বৈষম্যের শিকার হন, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজেরই একটি জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনা শেয়ার করেছেন তিনি। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক ক্ষুধার্ত পাকিস্তানি যাত্রীকে শুধু তাঁর দেশের পরিচয়ের কারণে খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন এই লেখিকা।
Advertisement
‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের লেখিকা নিবেদিতা শুক্লা জানান, সম্প্রতি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে তার ১০ ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ছিল। সেখানে তার মনে হয়, ইদানিং ভারতীয়দের প্রতি মানুষের ঘৃণা অনেক বেড়ে গেছে। লেখিকার মতে, বছরের পর বছর ধরে তিনি ভ্রমণ করছেন, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতীয়দের প্রতি বিদ্বেষ এখন চরমে এবং অবচেতনেই মনে হয় সবাই তাদের ঘৃণা করছে।
আরও পড়ুন ডে কেয়ারে ভয়ংকর কাণ্ড: কাঁদলেই শিশুদের আটকে রাখা হতো ওয়াশিং মেশিনে! ক্ষুধার্ত সহযাত্রীর প্রতি সহানুভূতিএসব ভাবনার মধ্যেই বিমানবন্দরে এক বাদামি চামড়ার মানুষের দিকে নজর যায় নিবেদিতা শুল্কার। ডাবলিন থেকে একই ফ্লাইটে আসা ওই ব্যক্তির পরনে ছিল সাধারণ পোশাক, উসকোখুসকো চেহারা এবং কাঁধে একটি পুরোনো ব্যাগ। নিবেদিতা বুঝতে পারেন, লোকটির আর্থিক অবস্থা হয়তো ভালো নয়। বেশিরভাগ মানুষই লোকটির দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছিল কিংবা এড়িয়ে চলছিল।
নিবেদিতা লক্ষ্য করেন, লোকটি বিভিন্ন রেস্তোরাঁর খাবারের মেন্যু দেখছেন। সম্ভবত সবচেয়ে সস্তা খাবারটি খুঁজছেন। ইউরোতে খরচ করার অভ্যাস না থাকা কোনো পরিশ্রমী ভাই ভেবে নিবেদিতার মন কেঁদে ওঠে। তার কাছে বাড়তি খাবার থাকায় তিনি সেটি ওই ব্যক্তিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
Advertisement
হাতে খাবারের পার্সেল নিয়ে নিবেদিতা ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি ডাবলিন থেকে এসেছেন?’ লোকটি হেসে ইতিবাচক উত্তর দেন। কিন্তু নিবেদিতা যখন জানতে চান তার গন্তব্য কোথায়, তখন লোকটি খুশিমনে জানান, ‘করাচি, পাকিস্তান।’
Im at the Frankfurt Airport for a 10 hr layover.I have been traveling around for years but now it feels different.The hate for India and Indians is at peak and we subconsciously feel every one is hating on us.It's been 3 hrs now, I noticed a fellow brown colored human being…
— Nivedita Shukla (@ShuklaNive) June 27, 2026পাকিস্তানি শোনার পরপরই নিবেদিতার পুরো আচরণ বদলে যায়। খাবার না দিয়েই তিনি নিজের আসনে ফিরে আসেন। আর মনে মনে বলেন, ‘যা, মর!’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভএক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিবেদিতার এই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রায় ১৮ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নিজের এমন বর্ণবাদী ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই লেখিকা।
Advertisement
রোহিণী সিং নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ভারতীয়রা যদি এমন জঘন্য আচরণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতিত্ব হিসেবে শেয়ার করে, তবে মানুষের মনে ভারতীয়দের প্রতি কেন ঘৃণা বাড়ছে তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইরেনা আকবর নামের অপর একজন লিখেছেন, তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন ভারতীয়দের ঘৃণা করা হয়। নিজের আচরণ দিয়েই তিনি নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমসকেএএ/