বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কঙ্গোর বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। ২-১ ব্যবধানে জয়ের দিনে জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন হ্যারি কেইন। তবে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচ নিয়ে বেশি চিন্তিত ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল।
Advertisement
ইংল্যান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ থমাস টুখেল আসন্ন ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আজটেক স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, স্টেডিয়ামের উচ্চতা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘এত অল্প সময়ে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লাগে এবং শারীরিকভাবে তিন বা চার দিনের মধ্যে তা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি অসুবিধা হবে। তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত এবং নিশ্চিতভাবেই আরও কিছু বাধার মুখোমুখি হতে হবে।’
Advertisement
জার্মান এই কোচের উদ্বেগের কারণ হলো মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত আজটেক স্টেডিয়াম। এত উঁচু স্থানে খেলতে অভ্যস্ত হওয়ায় স্বাগতিক মেক্সিকো স্পষ্ট সুবিধা পাবে।
টুখেল আরও বলেন, এই সমস্যা কার্যত সমাধান করা অসম্ভব, কারণ দলের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুবই সীমিত সময় রয়েছে। তার ভাষায়, ‘ফ্লোরিডায় অনুশীলনের কারণে আমরা গরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব না। এটি মেক্সিকোর জন্য বিশাল একটি সুবিধা।’
রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের হাতে মাত্র তিন দিনের অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে, যা তার মতে মোটেও যথেষ্ট নয়।
তবে তিনি ম্যাচটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন। আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি সম্ভবত ফুটবলে খেলা সবচেয়ে সুন্দর এবং রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটি—আজটেক স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলা।’
Advertisement
রাউন্ড অব ৩২-এ ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসা মেক্সিকোর বিপক্ষে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই হবে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য।
প্রায় ৪০ বছর পর ইংল্যান্ড আবারও বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে আজটেক স্টেডিয়ামে। সর্বশেষ তারা এখানে খেলেছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের দুটি আলোচিত গোল করেছিলেন-‘হ্যান্ড অব গড’ এবং পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি।’
আরআর/এমএমআর